ইপিএস বেড়েছে ৬৭ % ব্যাংকের

0
278

করোনা-সঙ্কটেও বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংকের মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস। সর্বশেষ প্রান্তিকে (জুলাই’২০-সেপ্টেম্বর’২০) তালিকাভুক্ত ৬৭ ভাগ ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি। সর্বশেষ প্রান্তিকে ২০টি ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে। আর কমেছে ১০টির।

তবে দৃশ্যত ইপিএস ও মুনাফা বেড়েছে দেখা গেলেও বাস্তবে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফা বাড়েনি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, করোনায় মন্দ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখা বা প্রভিশনিংয়ের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর মুনাফা বেশি দেখাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি রাখা হলে হয়তো অনেক ব্যাংকেরই মুনাফা এবং ইপিএস আগের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে কম হতো।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তথ্য মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে এবি ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১১ পয়সা। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরে চেয়ে ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

একইভাবে ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ২৭ পয়সা লোকসানে থাকা আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের হয়েছে ইপিএস ৫০ পয়সা। অর্থাৎ বেড়েছে ৭৭ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংকের ইপিএস ৩৯ পয়সা বেড়ে ২০২০ সালে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দাঁড়িয়ে ১ টাকা ১৩ পয়সায়। এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৪ পয়সা।

১ টাকা ২৩ পয়সা বেড়েছে সিটি ব্যাংকের। বিদায়ী প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। এর আগের বছর ইপিএস ছিল ৭৬ পয়সা।

ঢাকা ব্যাংকের ইপিএসই হয়েছে ৫২ পয়সা। এর আগের বছর ছিল ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ বেড়েছে ৭ পয়সা।

ইস্টার্ন ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭০পয়সা। আগের বছর ছিল ৮৮ পয়সা। গত প্রান্তিকের চেয়ে ৮২ পয়সা বেড়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের ইপিএস বেড়ে ৯৯ পয়সা। বিদায়ী প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৪ পয়সা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস ১৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ পয়সা।গত বছর ছিল ৩২ পয়সা।

২০ পয়সা লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ পয়সা্। অর্থাৎ ৪৭ পয়সা বেড়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস ২২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ পয়সায়। গত বছর একই সময়ে ছিল ১৪ পয়সা।

মাকেন্টাইল ব্যাংকের ইপিএস ২০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ পয়সা। গত বছর ছিল ৪৬ পয়সা।

তিন পয়সা ইপিএস বেড়ে ওয়ান ব্যাংকের হয়েছে ২৪ পয়সা।গত বছর একই সময়ে ছিল ২১ পয়সা।

২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৯ পয়সা ইপিএস থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইপিএস ১৫ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ পয়সা।

১ পয়সা বেড়ে প্রাইম ব্যাংকের হয়েছে ৪৫ পয়সা। এর আগের বছর ছিল ৪৪ পয়সা।

৬৫ পয়সা থেকে এ বছর পুবালী ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১টাকা ৫০ পয়সায়।

২৮ পয়সা থেকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে হয়েছে ৪৯ পয়সা, ৫৮ পয়সা থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকে হয়েছে ৭৫ পয়সা।৮৮ পয়সা থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২টাকা ৮ পয়সায়।

এছাড়াও আগের বছরের চেয়ে ৩ পয়সা বেড়ে ইউসিবি ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৩ পয়সা। এর আগের বছর ছিল ৭০ পয়সা। আর উত্তরা ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১টাকা ৪১ পয়সা। এর আগের বছরে তৃতীয় প্রন্তিকে ছিলো ৫০ পয়সা। অর্থাৎ বেড়েছে ৯১ পয়সা।

এদিকে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এবছরের প্রান্তিকে মুনাফা অর্থাৎ ইপিএস কমছে আইএফআইসি ব্যাংকের।

২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ৪০ পয়সা ইপিএস থাকা ব্যাংকটির ২০২০ তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ পয়সা। অর্থাৎ কমেছে১৮ পয়সা। যমুনা ব্যাংকের কমেছে ৯ পয়সা। গত প্রান্তিকে ইপিএস িছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। এই বছর হয়েছে ১টাকা ১১ পয়সা।

একইভাবে ডার্চ বাংলা ব্যাংকের ইপিএসই দাঁড়িয়েছে ২টাকা ৩৫ পয়সায়।যা গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ২ টাকা ৬৪ পয়সা।

২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংক এশিয়া ইপিএস হয়েছে ৬০ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ছিল ৮৮ পয়সা।

স্ট্যান্ডর্ড ব্যাংকের ইপিএসছিলো ৩৪ পয়সা। এই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে হয়েছে ৬ পয়সা।অর্থাৎ ২৮ পয়সা কমেছে। সোসাল ইসলামী ব্যাংকের কমেছে ৫ পয়সা। এবছর ইপিএস হয়েছে ২৯ পয়সা।গত বছর একই সময় ছিলো ৩৪ পয়সা। রুপালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১৩ পয়সা। গত বছর ছিল ১৪ পয়সা।

এছাড়াও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২১ পয়সা। গতবছর একই সময় ছিল ৪৫ পয়সা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১০ পয়সা।গত বছর ছিল ২৭ পয়সা। আর এনসিসি ব্যাংকের ইপিএস ছিল ৬০ পয়সা।গত বছর ছিল ৮১ পয়সা।

এ বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, করোনার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের বিশেষ ছাড় দেওয়ায়, ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোন খেলাপি ঋণের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন করতে হয়নি। এছাড়াও এই প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর খরচ কমেছে। এই দুই কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর ইপিএস বেড়েছে।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের মুনাফা পারেনি কারণ ব্যাংকগুলোতে নতুন করে ব্যবসা কম কমেছে, ডিপোজিট কমেছে পাশাপাশি কমেছে সুদহারও।ফলে ব্যাংক ব্যবসার যে প্রকৃত মুনাফা সেটা বাড়েনি।আগামী ডিসেম্বরের পর বলা যাবে প্রকৃত চিত্র কি?