ফেবারিট হয়েই মাঠে নামবে খুলনা

0
336

আসন্ন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে ব্যাটে-বলে সমান ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছে জেমকন খুলনা। যদিও বিপিএলের দলটির নাম ছিল খুলনা টাইটান্স, যার মালিকানা ছিল জেমকন গ্রুপের। এবারের টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোর তুলনার কাগজে কলমে বেশ শক্তশালীও তাঁরা।

২৪ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দলের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি লিগ। খুলনা টাইটান্স বিপিএলের তিনটি আসরে অংশ নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০১৬ ও ১৭ সালে দুইবার প্লে অফ খেললেও ২০১৯ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ফলে শিরোপার স্বপ্নটা চির অধরাই থেকে গেছে ফ্রাঞ্চাইজিটির। তাই হয়ত আসন্ন টুর্নামেন্ট ঘিরে বেশ আঁট-ঘাট বেঁধে নেমে পড়েছে তারা।

বঙ্গবন্ধু কাপকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের প্রতি চোখ ছিল ফ্রাঞ্চাজিগুলোর। অথচ প্রথম ডাকে সুযোগ পেয়েও সাকিব দলে ভেড়ায়নি বেক্সিমকো ঢাকা। দ্বিতীয় ডাকে তাই সাকিবকে লুফে নিতে ভুল করেনি খুলনার ফ্রাঞ্চাইজি। কেননা তাকে ঘিরেই ব্যটে-বলে আক্রমণভাগ সাজাতে চাইবে তাঁরা।

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাকিব। আর বিতর্কের সময়ই যেন বারবার তাঁর ব্যাটের হাসিটা চওড়া হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ফিটনেস যে এমনটাই ইঙ্গিত করছে। এক বছর পর মাঠে ফিরলেও ব্যাটে-বলে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফর্মটাই ফিরিয়ে আনতে চাইবেন তিনি।

যদিও পরে ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও দলে ভিড়িয়েছে খুলনা। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধীনে এর আগে খেলার অভিজ্ঞতার কারণে এবারও তাঁর কাঁধেই দেয়া হয়েছে অধিনায়কত্ব। সাকিবকে ব্যাটে-বলে নির্ভার রাখতেই হয়ত তাকে এই গুরু দায়িত্বটা দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাইতো দেশের দুই সেরা পারফরর্মারকে নিয়ে এমনিতেও বেশ এগিয়ে থাকবে খুলনা অঞ্চলের দলটি।

সাকিব-রিয়াদের সঙ্গে দলটিতে আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের একদল পরিক্ষিত পারফর্মাররা। ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, আরিফুল হক, জহুরুল ইসলাম অমি, শুভাগত হোম, নাজুমল হোসেন অপু, আল আমিন হোসেন, শফিউল ইসলামদের সঙ্গে হাসান মাহমুদ, শামীম হোসেন, জাকির হাসান, রিশাদ হোসেনদের মত একঝাঁক তরুণ।

খুলনার ওপেনিংয়ে ইমরুল এবং এনামুলকে দেখা যেত পারে। ইমরুল বিপিএলের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম। এনামুলও এর ব্যতিক্রম নন। অথচ অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলে ব্রাত্য এনামুল। ইমরুল তো জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই ব্যস্ত থাকেন। এই টুর্নামেন্টে তাই নিজেদের ফিরে পেতে প্রাণপণ লড়ে যাবেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। যেটা খুলনার জন্যও সুফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে।

সাকিব যদি তার পুরনো কৌশলেই স্থির থাকেন তাহলে ব্যাটিং পজিশনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ওয়ান ডাউনে নামার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। তা না হলে এই পজিশনে জহুরুল ইসলাম বা জাকির হোসেনকে খেলাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। জহুরুল গত কয়েক আসর ধরে বিপিএলের এই পজিশনে আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন। ২২ বছর বয়সী জাকিরও তার ব্যাটিং সক্ষমতা দিয়ে এই জায়গায় যোগ্য দাবিদার।

এরপর ব্যাট হতে দেখা যেতে পারে দলের আধিনায়ক রিয়াদকে। সাধারণত লোয়ার অর্ডারে নেমে দ্রত রান করার দায়িত্ব থাকে তাঁর। আরিফুল হক থাকায় ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর দিকে নেমে বড় ইনিংস গড়ার চেস্টা করতে পারেন তিনি। তখন আরিফুলকে স্লোগ ওভারগুলোয় দ্রুত রান করার জন্য হার্ড হিটিং খেলতে হতে পারে। এমনিতেও ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ড হিটার খ্যাতি রয়েছে তাঁর।

ব্যাটসম্যানরা যদি তাদের আস্তার প্রতিদান দিতে পারেন তাহলে রান আটকাতে স্পিনারদের দায়িত্বটা বেড়ে যাবে। নিঃসন্দেহেই এই আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন সাকিব। তার সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল অপু ও তরুণ লেগি রিশাদ হোসেন যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেন। সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্টস কাপে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন রিশাদ। খুলনার জন্য তাঁর জোরের উপর ডান হাঁতের ঘূর্নি বল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশ কার্যকর হয়ে দাড়াতে পারে।

পেস বোলিংয়েও বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ রূপসা পাড়ের দলটি। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও শফিউল ইসলাম এবং আল আমিন হাসান নতুন বলে বেশ কার্যকরী হতে পারেন। নতুন বলে শফিউলের সুইংয়ের সঙ্গে স্লগ ওভার গুলোতে আল আমিনের কার্যকরী বোলিং বাকি দলগুলোর ব্যাটসম্যানদের বেশ ভোগাতে পারে। এছাড়াও হাসান মাহমুদের বলের গতিও বেশ চিন্তার কারন হয়ে দাড়াতে পারে তাদের জন্য।

নিঃসন্দেহেই বলা যায়, বাকি চার দলের মধ্যে কাগজে কলমে এগিয়ে আছে খুলনা। কিন্তু ক্রিকেট তো গোল বলের খেলা আর টি-টোয়েন্টি যেন অনিশ্চয়তায় ভরপুর এক ফরম্যাট। তবে এতো সব পরিক্ষিত ক্রিকেটারের কারনে নিশ্চিতভাবেই মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে খুলনা। ব্যাটে-বলে সমান পারফর্ম করতে পারলে তবেই না চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে দলটি। ১৮ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত তা না হয় সময়ের হাতেই তুলে রাখা যাক।

খুলনার স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, আল আমিন হোসেন, হাসান মাহমুদ, শামীম পাটোয়ারি, আরিফুল হক, শফিউল ইসলাম, শুভাগত হোম, শহীদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, জাকির হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু, সালমান হোসেন এবং জহুরুল ইসলাম অমি।

অর্থসূচক/এএইচআর