দেশে করোনায় মৃতদের ৫৩ শতাংশই ষাটোর্ধ্ব

0
156

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব যেন থামছেই না। বিগত দুইমাস করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমলেও গত কয়েকদিনে আবারও বেড়েছে। ফলে দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ যে শুরু হয়ে গেছে সেটা স্পষ্ট।

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ মাসের মাথায় ছয় হাজার ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফর। এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৮২৭ জন এবং নারী এক হাজার ৪৪৮ জন। বুধবার ( ১৮ নভেম্বর) করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর এই তথ্য জানায়।

আবার মোট মারা যাওয়া ছয় হাজার ২৭৫ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্বদের সংখ্যাই অর্ধেকেরও বেশি। ছয় হাজার ২৭৫ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্বই মারা গেছেন তিন হাজার ৩০৩ জন, শতকরা হিসেবে ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

করোনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এক হাজার ৬৪৮ জন বা ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭৬৮ জন, ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩৩৩ জন, পাঁচ দশমিক ৩১ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৪৪ জন, দুই দশমিক ২৯ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৪৯ জন; শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ৩০ জন যা মোট সংখ্যার শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিন জন রোগীর কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তার ঠিক ১০ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সেদিন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘৭০ বছর বয়সী ওই রোগী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।’

আবার কোভিডে আক্রান্ত রোগীরা আগে থেকে যেসব অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছেন, সেসব রোগের মধ্য প্রথম হচ্ছে ডায়াবেটিস। নিপসমের এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এরপর রয়েছে- উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসের সংক্রমণ, কিডনি রোগসহ অন্যান্য রোগ।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) ‘বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্তদের ঝুঁকিগুলোর কারণ নির্ধারণ’ বিষয়ে গবেষণা করেছে। সেখানে তারা বলছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর জন্য ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণসহ অন্যান্য রোগের সহাবস্থান দায়ী। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি, লিভার ও ক্যানসারের কথাও উঠে এসেছে গবেষণাতে।

আবার মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ঢাকা বিভাগেরই। তিন হাজার ২৯৬ জন ঢাকা বিভাগের, শতকরা হিসেবে ৫২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ২২৬ জন, ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগের ৩৮৩ জন, ছয় দশমিক ১০ শতাংশ; খুলনা বিভাগের ৪৮৪ জন, সাত দশমিক ৭১ শতাংশ; বরিশাল বিভাগের ২১০ জন, তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ; সিলেট বিভাগের ২৫৯ জন, চার দশমিক ১৩ শতাংশ; রংপুর বিভাগের ২৮৭ জন, শতকরায় যা চার দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন ১৩০ জন যা কিনা শতকরা হিসেবে দুই দশমিক শূন্য সাত শতাংশ।

অর্থসূচক/কেএসআর