স্বস্তিতে নেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা

0
134
mutual fund
মিউচুয়াল ফান্ড
 মিউচুয়াল ফান্ড,  mutual fund
মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেও মূলধন রক্ষা করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা

ভালো নেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান-পতনের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বেছে নিয়েছিলেন যারা তাদেরও হাত পুড়েছে। এসব ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় থাকা কোম্পানিগুলো তথা অ্যাসেট ম্যানেজারদের ব্যর্থতায় বিনিয়োগকারীদের মূলধন পড়েছে হুমকীতে। বাজারে অনেক ফান্ডের ইউনিটের দাম নেমে এসেছে অভিহিত মূল্যের অর্ধেকে। অন্যদিকে ফান্ডগুলো থেকে তেমন লভ্যাংশও পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৪১ টি মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। তার মধ্যে ২৬ টি বা ৬৩ ভাগের ইউনিটের বাজার মূল্য তার অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম। সবগুলো ফান্ডের ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হলেও বর্তমানে ৬ টি ফান্ডের ইউনিটের দাম নেমে এসেছে ৫ টাকায়।

পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড নিরাপদ বিনিয়োগ ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী যাদের মূলধনের আকার ছোট, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুযোগ কম তাদেরকে সরাসরি বিনিয়োগ না করে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু আনাড়ি ও অদক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে আছেন। তারা মূলধনী মুনাফার সুযোগ তো পাচ্ছেনই না, উল্টো মূলধন হারাচ্ছেন। অন্যদিকে ফান্ড থেকে লভ্যাংশও পাচ্ছেন না তেমন।

গত বছর তালিকাভুক্ত ৬ টি ফান্ড ইউনিটধারী তথা বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এবার এখন পর্যন্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্কন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৩ শতাংশ এবং আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড সাড়ে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। অর্থাৎ ১০ টাকা বিনিয়োগ করে ফান্ড দুটি থেকে লভ্যাংশ পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ৩০ পয়সা ও ৫৫ পয়সা। অথচ ব্যাংকে ১ বছর মেয়াদে অর্থ জমা রাখলে পাওয়া যায় ১১ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো শুধু অদক্ষই নয়, তারা দুর্নীতিতেও যুক্ত। এসব কোম্পানির অনেক শীর্ষ কর্তা বাজার কারসাজিকারীদের সঙ্গে যোগসাজশে শেয়ার কেনেন। কারসাজিকারীরা যেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সেগুলো উচ্চ দরে কিনে তাদেরকে মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এর বিনিময়ে মুনাফার ভাগ পান তারা। কখনো কখনো বেনামীতে নিজেরাও ওই শেয়ারে বিনিয়োগ করে পরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে গছিয়ে দেন। আর বেশি দামে শেয়ার কিনে লোকসানে পড়ে সংশ্লিষ্ট ফান্ড।