তুরস্ক-গ্রিসে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২২, আহত ৮ শতাধিক

0
74

তুরস্ক ও গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬। এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২২ জন। আহত হয়েছেন আট শতাধিক।

ভূমিকম্পের ফলে উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঢেউ। বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এটাকে ছোট আকারের সুনামি হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আঘাত হানা ভূমিকম্পে এজিয়ান সাগরের উপকূলে তুরস্কের ইজমির প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। গ্রিসে আঘাত হানে স্যামোস অঞ্চলে।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) বলেছে, গ্রিনিচ সময় ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট) আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৬।

ভূমিকম্পে ইজমির প্রদেশের ইজমির শহরে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই সড়কে হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০৯ জন।

তুরস্ক ও গ্রিসের কর্তৃপক্ষ বলেছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলও ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে। গ্রিসের সামোস দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই দ্বীপে উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইজমির শহরে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ইজমির ও অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। একই দৃশ্য দেখা যায় গ্রিসেও।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের সবাই উপকূলীয় অঞ্চলের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৮৬ জন।

অন্যদিকে গ্রিসের স্যামোস দ্বীপে অল্পবয়সী দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন নারী, একজন পুরুষ।

বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। চাপা পড়েছে বহু গাড়ি। প্লাবিত হয়েছে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্ক জানিয়েছে, ১৭টি বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯৬টি ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ এর উপরে।

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলোজিক্যাল সার্ভে (ইউজিএস) বলছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তুরস্কের ইজমির প্রদেশ। এটি গ্রিসের এথেন্স এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও অনুভূত হয়।

এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, গ্রিসের যদি কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয় তবে তুরস্ক প্রস্তুত।

গ্রিস এবং তুরস্ক বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প সক্রিয় প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত দুটি দেশ। প্রায়ই এই অঞ্চলে শক্তিশালী এবং মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৯৯৯ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

২০১১ সালেও দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভ্যান প্রদেশে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে ৬ শতাধিক মানুষ মারা যান। গ্রিসে সর্বশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ২০১৭ সালে। ওই বছরের জুলাইয়ে সামোসের কাছের কোস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দু’জনের প্রাণহানি ঘটে।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন।

অর্থসূচক/কেএসআর