১১ সংস্থার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

0
88
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাত

ইরানের প্রতি আরো কঠোর মনোভাব গ্রহণ করল আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে নতুন করে ১১টি সংস্থার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। তাদের অভিযোগ, তারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালাচ্ছিল।

শুধু তাই নয়, আমেরিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরান থেকে ইয়েমেনগামী একটি জাহাজকে আটক করেছিল আমেরিকার নৌবাহিনী। জাহাজে বিপুল পরিমাণ মিসাইল ছিল। ইরান ইয়েমেনকে ওই মিসাইল বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ। মার্কিন নৌবাহিনী ওই মিসাইল আটক করেছে। একই সঙ্গে ইরান থেকে ভেনেজুয়েলাগামী জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম উদ্ধার হয়েছে বলেও আমেরিকা জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। কিন্তু শেষ মুহূর্তেও ইরান প্রসঙ্গে এতটুকু নরম মনোভাব গ্রহণ করছে না ট্রাম্প প্রশাসন। বরং নির্বাচনের আগে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বস্তুত, ক্ষমতায় আসার পরেই ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার বক্তব্য ছিল, ইরান তেল বিক্রি করে সেই টাকা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে দেয়। দেশের মানুষকে অর্থকষ্টে রেখে ইরানের সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে মদত দেয়।

এই অভিযোগ সামনে রেখেই ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অ্যামেরিকাকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানালেও এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প তাতে কর্ণপাত করেননি। বরং যত সময় গিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মনোভাব আরো কঠোর করেছেন।

বৃহস্পতিবার আমেরিকার ট্রেজারি বেঞ্চ জানিয়েছে আরো ১১টি সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। আমেরিকার কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ওই কোম্পানিগুলির সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। অভিযোগ, ওই কোম্পানিগুলি আমেরিকার নিষেধ উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করেছে।

বৃহস্পতিবারই মিসাইল উদ্ধারের বিষয়টি জানায় মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনকে অস্ত্র বিক্রি করছে ইরান। বৃহস্পতিবার তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। সমস্ত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে আমেরিকা জানিয়েছে। পাশাপাশি কিছু দিন আগে একটি ভেনেজুয়েলাগামী জাহাজকেও আটকে ছিল মার্কিন নৌবহর। বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, ওই জাহাজে ভেনেজুয়েলাকে তেল পাঠাচ্ছিল ইরান। আমেরিকা সেই তেল আটক করে নিলামে বিক্রিও করে দিয়েছে।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টেফান মানুচিন তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যকে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ বন্ধ করতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: রয়টার্স,পার্সটুডে

অর্থসূচক/এএইচআর