শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বললেন এরদোয়ান

0
79
Turkish President Recep Tayyip Erdogan
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

ফ্রান্সের বিতর্কিত ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ‘যে স্কাউন্ড্রেলরা আমাদের প্রিয় মহানবীকে নিয়ে ওই ধরনের কাজ করতে পারে, তাদের সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই৷’

এরদোয়ান জানিয়েছেন, তাঁর যে কার্টুন ছাপা হয়েছে, তা তিনি দেখেননি। তবে বিষয়টি জানেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার জঘন্য কার্টুন করেছে বলে আমার রাগ ও দুঃখ হয়নি, এই মিডিয়া আমাদের প্রিয় মহানবীর কার্টুন ছাপার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল বলে আমি ক্রুদ্ধ।’

তুরস্ক জানিয়েছে, তারা এই কার্টুনের বিরুদ্ধে আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এরদোয়ানের আইনজীবীরা একটি মামলাও করেছেন। আর এরদোয়ানের মিডিয়া ডিরেক্টর বলেছেন, ‘এই ধরনের কার্টুন ইসলামোফোবিয়া তৈরি করবে। মনে হচ্ছে, ফ্রান্স সেটাই চাইছে। মাক্রোঁ ইসলাম-বিরোধী নীতি নিয়ে চলেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই ধরনের কার্টুন তারই ফসল। এটা ঘৃণা ছড়াবে।’

এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিন টুইটারে বলেছেন, ফরাসী ম্যাগাজিনে আমাদের প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে যে চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে; যেখানে কোনও বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, আমরা দৃঢ়ভাবে এর নিন্দা জানাই। তারা কেবল নিজেদের অশ্লীলতা এবং অনৈতিকতার প্রদর্শন করছে। কারও ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর আক্রমণ হাস্যরস কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ফাহরেত্তিন আলতুন বলেন, ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মুসলিমবিরোধী অ্যাজেন্ডা ফল দিচ্ছে।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)-র কার্টুন প্রকাশ করে শার্লি হেবদো পত্রিকাই বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। সেই কার্টুন দেখিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে দাবি করেছিলেন শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি। পরে তাকে হত্যা করেছে ১৯ বছর বয়সী চেচেন যুবক। এরপর ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।

এরদোয়ানের মত ছিল, মাক্রোঁ ইসলামকে অপমান করতে পারেন না। তিনি বলেছিলেন, কেউ যেন ফরাসি জিনিস না কেনেন। তারপর আরব দুনিয়ার অনেক দেশই ফরাসি জিনিস বয়কট করেছে।

এদিকে মাক্রোঁ বনাম এরদোয়ানে লড়াই আর শুধু কার্টুন বা একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা-যুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্রান্স ইইউ-কে জানিয়েছে, তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, এরদোয়ানে ফরাসি জিনিস বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তিনি মাক্রোঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অপমান করেছেন।

আবার তুরস্কের পর্লামেন্টে মাক্রোঁর বিবৃতির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। চারটি প্রধান রাজনৈতিক দল একযোগে জানিয়েছে, মাক্রোঁ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যা বলেছেন, তাতে প্রবল বিরোধ দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব সব ধর্মের লোকেদের উপরে পড়বে।

এছাড়া ফ্রান্সের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্স ঐক্যবদ্ধ, ইউরোপও তাই। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে ক্ষমতার ভারসাম্যকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তুরস্ক যাতে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও স্বার্থ মেনে চলে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সূত্র: এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিডব্লিউ

 

অর্থসূচক/এএইচআর