চাঁদে আরও পানির সন্ধান

0
94

এক সময় মনে করা হতো চাঁদ সম্পূর্ণ শুকনো। সামান্য পানিও সেখানে নেই। কিন্তু এগারো বছর আগে প্রথম নাসার এক বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন চাঁদেও পানি আছে। তবে সম্প্রতি ‘নেচার অ্যাসট্রনমি’ পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে, তা বিস্মিত করেছে অনেককেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যা আশা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ পানি আছে চাঁদে।

এতদিন বিজ্ঞানীরা তা বুঝতে পারেননি কারণ, চাঁদের যে অংশে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে বরফের আকারে জমে আছে পানি। কয়েক কোটি বছর ধরে ওই পানি ওই ভাবে জমে থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা এতদিন তা বুঝতে পারেননি।

নাসার বক্তব্য, নতুন এই আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। এখন মহাকাশচারীরা চাঁদে গিয়ে চাঁদের পানিই পান করতে পারবেন। রকেটের ফুয়েল তৈরির কাজেও ওই পানি ব্যবহার করা যাবে।

চাঁদের দুইটি দিক। এক দিকে সূর্যের আলো পৌঁছায়, অন্য দিকে পৌঁছায় না। অতন্দ্র অন্ধকার। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ওই অঞ্চলে জমাট বরফের আকারে বিপুল পরিমাণ পানি জমে আছে। শুধু তাই নয়, যে দিকে সূর্যের আলো পৌঁছয়, সেখানেও পানির মলিকিউল পাওয়া গিয়েছে। চাঁদের অন্ধকার দিকের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৩২ ডিগ্রি নীচে। কোটি কোটি বছর ধরে সেখানে পানি বরফের আকারে আছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন ওই অঞ্চল শুকনো পাথরের মতো বলে মনে করতেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন এই আবিষ্কারের পরে চাঁদে আরো নতুন নতুন পরীক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।

নাসার পরিচালক জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলছেন, এখনও আমরা জানি না এই সম্পদ আমরা কী করে ব্যবহার করব। তবে আণবিক জলের অস্তিত্বের স্পষ্ট এই আবিষ্কার চাঁদে ভবিষ্যৎ অভিযান ও মহাশূন্যে আরও গভীর অভিযান এবং অনুসন্ধান চালানো সহজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য এখন চাঁদের প্রাকৃতিক উপকরণগুলোতে পানির আঁধারটি আটকে রাখা।

সূত্র: রয়টার্স।

অর্থসূচক/কেএসআর