নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: আরও একজন গ্রেপ্তার

0
59

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে ওয়াসিমকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবি সিদ্দিকী দিপুকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির রমনা গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল টাঙ্গাইল থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এবি সিদ্দিক দিপু মামলার এজাহারভুক্ত ২ নস্বর আসামি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, রোববার রাতে হাজী সেলিম ছেলে ইরফান ও তার বডিগার্ড নৌবাহিনী কর্মকর্তা ওয়াসিফকে মারধর করেন। রাতে ঘটনার বিষয়ে একটি জিডি হলেও সোমবার ভোরে ঘটনাটিকে মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর রাতে এমপি হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসাথে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনি মেরে ফেলব’ বলে ওয়াসিমকে কিল-ঘুষি মারে এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডি থানার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরে ইরফানের বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিকী দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয় ডিবি পুলিশ। তবে পলাতক ছিলেন এবি সিদ্দিকী। গোয়েন্দা তথ্যে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গতরাতে টাঙ্গাইল থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবি সিদ্দিকী দিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ধানমন্ডি থানায় তাকে সোপর্দ করা হবে।

এদিকে ইরফান সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এছাড়া তার শয়নকক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাসায় অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস ও বিদেশি মাদক রাখার দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ডকে। রাতে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

অর্থসূচক/এএইচআর