এসএমই খাতে পাঁচ ব্যাংকের ঋণ বিতরণ শূন্য

0
109
SME
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত
SME
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। তবে কিছু ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। আর আলোচ্য সময়ে পাঁচটি ব্যাংক এ খাতে এখনও কোনো ঋণ বিতরণই শুরু করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এসএমই খাতে মোট ৮৮ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ২১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ২০ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করেছে ৬৩৯ কোটি টাকা।

তবে তফসিলভুক্ত ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। ঋণ বিতরণ না করা এসব ব্যাংকের মধ্যে নতুন অনুমোদন পাওয়া তিনটি ও দুটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো- এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

তথ্যানুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকের মধ্যে রূপালি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫০ কোটি টাকা। এ সময়ে তারা এ খাতে ১১১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ। জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৫৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ। সোনালি ব্যাংক ৬০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ করেছে ৭৯ কোটি টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংক এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৪৬৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ২০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক যথাক্রমে ৬৭১ কোটি ও ১৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

তবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ বিতরণে অনেক পিছিয়ে আছে। এ বছর প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। এ বছর কৃষি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিকে তারা বিতরণ করেছে ৯৯ কোটি টাকা।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে সিটি ব্যাংক। এ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার ২৩৯ কোটির মধ্যে ৯৬২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৭৭ শতাংশ। এরপরে ৭৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ফারমার্স ব্যাংক। ব্যাংকটি ৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। ব্যাংক এশিয়া ১ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৫১৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৫১ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে কম ঋণ বিতরণ করেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি মাত্র ৮ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ১১ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ১৩ শতাংশ, মেঘনা ও প্রাইম ১০ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক সাড়ে ১১ শতাংশ, পূবালি ব্যাংক ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে।

বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে উরি ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটি ৯৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। আর তাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ৯০ কোটি টাকা। কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ১০০ কোটির মধ্যে ২০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটোয়ারী অর্থসূচককে বলেন, এসএমই খাতকে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বিকভাবে তদারকির আওতায় রাখা হয়েছে। তাছাড়া ক্রমাগত ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের সাথে বৈঠক ও তাদের ঋণ নিতে উৎসাহিত করায় এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের সঠিক সময়ে ঋণ দিতে আমরা জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। যেসব ব্যাংক এখনও ঋণ বিতরণ করেনি তাদের ঋণ দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা বেশি ঋণ বিতরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসএই/ এ এস