মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আমরণ অনশনে রায়হানের মা

প্রতিনিধি

0
226

সিলেটে যে পুলিশ ফাঁড়িতে মো. রায়হান আহমদ (৩৪) নির্যাতনে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই ফাঁড়ির সামনে স্বজনদের নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন তার মা সালমা বেগম। রায়হান হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অনশনে বসেছেন তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অনশনে বসেন সালমা বেগম। অনশনস্থলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

তার সঙ্গে রয়েছে রায়হানের চাচা-চাচি, মামা, খালা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনসহ আখালিয়া এলাকাবাসী।

রায়হান আহমদের মা বলেন, এই ফাঁড়িতেই আমার ছেলেকে পুলিশ হত্যা করেছে। সেখানেই আমরণ অনশন শুরু করেছি। আকবর গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।

সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রায়হান নিহতের ঘটনায় বরখাস্তকৃতরা কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। নিহতের ১৩ দিন হলেও কেন ঘটনার মূল হোতা এসআই আকবরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এসআই আকবরসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, আমার বুকের ধন একমাত্র ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে এই ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর ও তার সহযোগীরা। বর্বরোচিতভাবে নির্যাতন করে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তারা।

‘হত্যাকারী এসআই আকবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার চাই। আর না হয়, আমি ফাঁড়ির সামনে থেকে যাবো না। আমার ছেলেকে মেরেছে, আমাকেও গুলি করে মারা হোক।’

রায়হান হত্যার ঘটনায় ব্যবসায়ীরাও রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা নগরের কোর্ট পয়েন্টে কর্মসূচি দিলেও পরবর্তীসময়ে রায়হানের মায়ের করা অনশনে এসে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে রেখে রায়হান হত্যার মূল হোতা এসআই আকবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রায়হানকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডেক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে থানায় মামলা করেন। এরপর বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

অর্থসূচক/কেএসআর