আমিও সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য: প্রধানমন্ত্রী

0
56

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার সঙ্গে সাংবাদিকতার একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে দাবি করতে পারি আমিও বঙ্গবন্ধুর সন্তান হিসেবে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য। সেভাবেই আমি আপনাদের দেখি।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তীর উদ্বোধনকাল এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে যেভাবে পারেন, যা খুশি আপনারা কিন্তু রিপোর্ট করতে পরেন। সেখানে আমরা কোন বাঁধা দেইনি। সেভাবে স্বাধীনতার পর জাতির পিতাও কিন্তু আপনাদের সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন। তার জীবনটাও কিন্তু সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি যখন কোলকাতায় পড়াশোনা করতেন তখন সাপ্তাহিক একটি পত্রিকার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন, কিন্তু সেটা বেশিদিন চলেনি।

‘এরপর ইত্তেহাদ নামে একটি পত্রিকা বের হয়, সে পত্রিকার সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। হাসেম সাহেব মূলত দায়িত্ব ছিলেন সে পত্রিকার। কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান হওয়ার পর যখন সবাই বাংলাদেশে চলে আসে তখন ইত্তেফাক বের করা হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অর্থে। এই ইত্তেফাক পত্রিকাটা তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া এটার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানেও কিন্তু বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য তিনি আর একটি পত্রিকা বের করেছিলেন ‘নতুন দিন’ নামে। সেই পত্রিকার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি বাংলার বাণী সপ্তাহিক বের করেন। সেটা মার্শাল ল জারির পর গ্রেফতার এবং এরপর যখন তিনি মুক্তি পান সেই ১৯৬১ সালের দিকে তখন থেকে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী করেন এভাবে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে পঁচাত্তর পরবর্তী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান এরপরে এরশাদ, এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিকে শুধু প্রশ্রয় দেওয়া না, নিজেরাই দুর্নীতি করে গেছে এবং দুর্নীতিকে লালন-পালন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু সেটা কখনও করছি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে ছিল কী? যতই দুর্নীতি, অনিয়ম হোক, সেগুলো ধামাচাপা দেওয়া হতো। আর সমস্যাগুলো ওই যে কথায় বলে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা। আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না।

তিনি বলেন, কোথাও কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে পরে আমরা কিন্তু এটা চিন্তা করি না যে এটার সঙ্গে আবার দল জড়িত কি না। আমার অমুক জড়িত কি না। পার্টির বদনাম হবে কি না। সরকারের বদনাম হবে কি না- আমরা কিন্তু সেই চিন্তা কখনও করি না। আমি চিন্তা করি, সেখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা নিতে গিয়ে হয় এমন অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপর চলে আসে। তখন এমন মনে হয়- আওয়ামী লীগ সরকারই যেন দুর্নীতি করছে। আসলে তা এমন নয়।

ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সহ-সভাপতি নুরুল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

অর্থসূচক/কেএসআর