স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুম, পুলিশকে দেখিয়ে দিল মেয়ে

0
87
ফাইল ছবি

কক্সজারের মহেশখালীতে নিখোঁজের ৬ দিন পর গৃহবধূ আফরোজা বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্বামীর বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রাম থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আফরোজা উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূইছড়া গ্রামের মো ইসহাকের মেয়ে। নিহতের স্বামী রাকিবুল হাসান বাপ্পির ১ম স্ত্রীর ৫ বছরের কন্যা সন্তান লাশ গুমের বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়।

নিহতের পারিবার জানায়, এক বছর আগে কালামারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাসান বশিরের ছেলে বদরখালী কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক রাকিব হাসান বাপ্পির সঙ্গে হোয়ানক ইউনিয়নের পূইছড়া গ্রামের মো. ইসহাকের মেয়ে আফরোজার বেগমের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ে। পরে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হলে আফরোজা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই সময় আফরোজা বাবার বাড়িতে ছিলেন। তবে সম্প্রতি মামলা আপোষ মিমাংসা হলে বাপ্পি স্ত্রী আফরোজাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর পুত্রবধূ আফরোজা বেগম নিখোঁজ হয়েছে বলে শাশুড়ি রোকেয়া হাসান আফরোজার বাবার বাড়িতে খবর দেন। সেই থেকে আফরোজা নিখোঁজ ছিলেন।

কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, আফরোজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই জানান, নিহতের স্বামী রাকিবুল হাসান বাপ্পীর ১ম স্ত্রীর ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান বাবার সঙ্গে থাকে। সৎ মাকে হত্যা ও লাশ গুমের সব বিষয় সে দেখে ফেলে। তখন শিশুটিকে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশ কৌশলে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার সৎ মায়ের কথা জানতে চায়। এসময় বাবা ও অন্যান্যরা মিলে সৎ মাকে খুন করে লাশ গুম করার বিষয়টি পুলিশকে জানায় সে। সেই সূত্র ধরে রাকিব হাসান বাপ্পির বাড়ির আঙ্গিনায় পুঁতে রাখা অবস্থায় আফরোজার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অর্থসূচক/কেএসআর