পুঁজিবাজারের মেরুদণ্ড হবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড: মিজানুর রহমান

0
604

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আগামীতে পুঁজিবাজারের মেরুদণ্ড হবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত।

তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশ। আশার করি আগামী ৩-৪ বছরের ৩ শতাংশ হতে পারে। আর ৫ বছরের মধ্যে বাজার মূলধনের ২০ শতাংশ হবে এই খাতের। যা বাস্তবায়নে আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।

আজ (১০ অক্টোবর) ‘পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনীতিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর আয়োজন করে।

এএএমসিএমএফ’র প্রেসিডেন্ট ড. হাসান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন এবং অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল ইসলামসহ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এমডিরা বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাফিজ আল তারিক।

বাংলাদেশের ম্যানেজাররা অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ফান্ড ম্যানেজারকে আরও দক্ষ হতে হবে। অবকাঠামো, আইনগত দ্রুত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের চার সমস্যা দূর করে জনপ্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্তমান কমিশন আইন-কানুন বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই কমিশন চায় অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো কাঙ্খিত সফলতা পায়নি। যদিও বাংলাদেশের বাজারের মন্দা অবস্থা অন্যদেশের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী ছিল। কিন্তু নানা সুযোগ থাকলেও দেশের ফান্ড ম্যানেজাররা বিনিয়োগের ক্ষেত্রের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি।

এই কমিশনার বলেন, দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ২০০১ সালের একটি আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিদ্যমান আইনে ফান্ড ম্যানেজারদের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ওই আইনে ৪০ শতাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ৩০ শতাংশ ডিবেঞ্চারসহ অন্যান্য পণ্য এবং বাকি ৩০ শতাংশ অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। শিক্ষিত বিনিয়োগকারী হিসেবে ফান্ড ম্যানেজাররা মাকের্টের গতিবিধি বুঝতে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারেনি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ফান্ডগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা কাঙ্খিত লভ্যাংশ পায়নি। ফান্ডগুলো মার্কেটকেও গতিশীল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আইসিবির এমডি আবুল হোসেন বলেন, ১৯৮০ সালের দিকে প্রথম দেশের বাজারে আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড আনে। এক সময় আইসিবির মিউচ্যুয়াল ফান্ড জনপ্রিয় ছিলো আইসিবিরি ৮টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হোল্ডারদের ১ হাজার শতাংশ লভ্যাংশও দিয়েছিলো। এখনো আইসিবির ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। এই খাতে আইসিবিই ভালো অবদান রাখছে।

ভারতের জিডিপিতে মিচ্যুয়াল ফান্ডের অবদান ১৩ শতাংশ আর বাংলাদেশে ০.৫০ শতাংশ উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবস্থা সীমিত। এখানে মাত্র ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আইসিবির ৭ হাজার টাকা ও ৫৮ শতাংশ। দেশের বাজার মূলধনের ১ শতাংশের কম। এখাতে আস্থার সংকট রয়েছে এটি দ্রুত ফিরে আনতে হবে।

 

অর্থসূচক/এমআই/এএইচআর