সোনার দামে খড় কিনছে কৃষক

0
63

প্রথম দফার বন্যা থেকেই গো-খাদ্যের সংকট চলছে কুড়িগ্রামে। এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারন করেছে। জুন থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাঁচ দফার বন্যায় জেলার কৃষি জমির পাশাপাশি চারণ ভূমিসহ গৃহস্থের বাড়িতে রাখা খড় পচে নষ্ট হয়ে গেছে।ফলে জেলায় নেই খড়ের যোগান। বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু খড় আমদানি করলেও সেগুলোর দাম আকাশ ছোঁয়া। গুরু বাঁচাতে তাই হেলাফেলার খড় এবার কৃষককে কিনতে হচ্ছে সোনার দামে।

কুড়িগ্রামে প্রতি কেজি খড়ের দাম পড়ছে পঞ্চাশ টাকা। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। একশ আঁটি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। মাড়াই করা খড়ের দাম আরেকটু বেশি। কেজি প্রতি ধরলে পঞ্চাশের ওপরে দাম। তারপরেও সচরাচর মিলছে না গো-খাদ্য। গবাদি পুশু বাঁচাতে বিলের কচুরিপানা, কচি কলাগাছ, বাঁশের পাতা, কাঁঠালের পাতার ওপর ভরসা করছে কৃষকেরা।

আগে জেলায় একশ খড়ের আটির দাম ছিল দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা। এখন তা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়। তাও গ্রামগঞ্জে মিলছে না কিনতে হচ্ছে উপজেলার সদর হাট থেকে।

অপরদিকে দাম বেড়েছে সব ধরনের পশু খাদ্যের। খাদ্য সংকটে থাকা গবাদি পশু মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কমে যাচ্ছে ওজন এবং দুধের যোগান। ফলে দাম কমেছে এসব গবাদি পশুর। ক্ষতিতে পড়েছে পশু পালনকারীরা।

গো-খাদ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার বলেন, বন্যা চলাকালিন সময় ১২ লাখ টাকার পশু খাদ্য এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তিন হাজার ৮৫০ পরিবারকে ৭৫ কেজি করে পশুখাদ্য সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া চলমান সংকটে থাকা ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।

জানা যায় পাঁচ দফা বন্যায় জেলায় এক হাজার ১১৬ একর চারণভূমি, ১৯৩ মেট্রিক টন খড়, ৪৯৫ মেট্রিক টন কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়েছে। ফলে প্রকট খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার লাখ লাখ গবাদি পশু।

জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী জেলায় গরু রয়েছে আট লাখ ৪৭ হাজার ১৪৬টি, মহিষ রয়েছে তিন হাজার ৪৯৫টি, ছাগল রয়েছে চার লাখ ১২ হাজার ৪৮৫টি, ভেড়া রয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ২৩৩টি এবং ঘোড়া রয়েছে দুই হাজার ৪৯৯টি।