‘নোয়াখালীর সেই নারীকে আগেও দুইবার ধর্ষণ করেছে দেলোয়ার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
345

নোয়াখালীতে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার আগে দুইবার ধর্ষণ করেছিল স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্তদলের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই নারী মঙ্গলবার এমন অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) ও তদন্তদলের প্রধান আল-মাহমুদ ফয়জুল কবীর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মিলনায়তনে আল-মাহমুদ ফয়জুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, নারীর অভিযোগ অনুযায়ী দেলোয়ার প্রায় সময় তাকে অশোভন প্রস্তাব দিতেন। প্রস্তাবে সাড়া দিতে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হতো। প্রায় বছর খানেক আগে দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ভয়ে ও লোকলজ্জায় তিনি এ ঘটনা প্রকাশ করার সাহস পাননি। এরপর গেল রমজানের কিছুদিন আগে দেলোয়ার তার সহযোগী কালামের মাধ্যমে ওই নারীকে একটি নৌকায় ডেকে পাঠান। সেখানে দেলোয়ার ও কালাম দুজনই তাকে ধর্ষণ করতে চায়। এ সময় তিনি দেলোয়ারের কাছে অনুনয়-বিনয় করলে কালামকে টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেন দেলোয়ার। এরপর নৌকায় দ্বিতীয়বার তাকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার।

আল-মাহমুদ ফয়জুল কবীর বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছি। চেয়ারম্যানের পরামর্শ মতে তারা ওই নারীকে দিয়ে দেলোয়ার ও কালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক একটি মামলা করাবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশনের প্যানেল আইনজীবীরা আদালতে মামলাটি পরিচালনা করবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগের অভিযোগের পাশাপাশি ওই নারী এখন যেসব নতুন অভিযোগ করেছেন সেগুলোও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে সেই নারীর সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মানবাধিকার কমিশনের তদন্তদলের প্রধান।

উল্লেখ্য, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একলাশপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন ওই নারী। ১০ বছর পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্বামী তার কাছে এলে দেলোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা দরজা ভেঙে ওই নারীর ঘরে ঢোকে। এরপর তারা ওই নারীর স্বামীকে পাশের রুমে বেঁধে রেখে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর থেকে ওই নারী এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে থাকলেও তাকে মোবাইলফোনে নানা ধরনের হুমকি ও কুপ্রস্তাব দিতো দেলোয়ারবাহিনী। তিনি ফিরে না আসায় গত ৪ অক্টোবর সে ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে।

গত রবিবার রাতে র‌্যাবের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে অস্ত্রসহ নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে বেগমগঞ্জে তার মাছের খামারে আরও বিস্ফোরক ও গুলি রয়েছে। পরে র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি দল মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে ৭ টি তাজা ককটেল ও দুটি বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করে। বিস্ফোরক ও গুলি উদ্ধার ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। অন্যদিকে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের একজন ডিএডি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা খাতুনের আদালতেআসামি দেলোয়ারের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অর্থসূচক/এমএস