গরু-ছাগলের কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে: আবু আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
609

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডসহ ভালো ভালো ওষুধ কোম্পানি পুঁজিবাজারে না আসলেও গরু-ছাগলের ওষুধের কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ।

তিনি বলেন, ১০ বছরের মধ্যে যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ কোম্পানি ‘জাঙ্ক শেয়ার’। এখানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডসহ ভালো ভালো ওষুধ কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি। এসেছে গরু-ছাগলের ওষুধ কোম্পানি।

তবে এ সময়ে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিওর প্রতি সমর্থন জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন,  ‘পুঁজিবাজারে ওয়ালটনের তালিকাভুক্তিকে আমি সমর্থন করি। কারণ, কোম্পানিটি বর্তমানে দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ‌্যের মার্কেটের ৫০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। যেসব কোম্পানির বেচা-কেনা নেই, এরকম ১০টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে লাভ নেই। যেসব কোম্পানির ব্যবসা রয়েছে, বেচা-বিক্রি বেশি রয়েছে, তাদেরকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে।’

আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব-বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা: ব্যবসায় এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ বিষয়ক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে দেশি ভালো কোম্পানি এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। মার্কেটে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের পর ২০০ পয়েন্ট বাড়তে পাড়ে আবার কমতে পারে। এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে রবি আজিয়াটার মত ভালো ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আনেন।

রবি আসলে দেশের পুঁজিবাজরের মর্যাদা বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রবির মতই নেসলে, মেটলাইফ, ইউনিলিভার এবং স্ট্যান্ডার্স চাটার্ড ব্যাংকসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে। কোম্পানিগুলোকে ইনসেটিভ দিতে হবে।

সিপিডিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নন-লিস্টেড এবং লিস্টেড কোম্পানির কর সুবিধা বিশ্বের কোন দেশে কেমন? দেশে এই কর ব্যবধান এটা এখন ১০ শতাংশ কম রয়েছে। এখানে কর সুবিধা বাড়াতে হবে। লিস্টেড-নন লিস্টেড কোম্পানির কর হারের ব্যবধান বাড়াতে হবে।

আবু আহমেদ বলেন, আইপিও অনুমোদনে বিএসইসিকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। কারও চাপে নমনীয় হয়ে আইপিও অনুমোদন দেওয়া যাবে না। আশা করি, এই কমিশন শক্ত হয়ে দাঁড়াবে। ভালো ভালো কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দিবে। যদি না পারে আর কেউ পারবে না। এ কাজের জন্য কমিশনে একটি গবেষণা কেন্দ্র রাখতে হবে। এখান থেকে ভালো ভালো কোম্পানিগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এই কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে কি কি কাজ করতে হবে তারা সেটা দেখবে।

ওয়ালটনের শেয়ার যাতে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা বিক্রি করে না যেতে পারে বিএসইসিকে সেই কার্যক্রম চালাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এই পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ।

অর্থসূচক/এমআই/কেএসআর