দুষ্ট লোকদের চিহ্নিত করেছি, এদের ব্যাপারে খেয়াল রাখবো: শিবলী রুবাইয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
553

বিএসইসিতে দুষ্ট লোকের আগমন কমে যাচ্ছে। আমরা এই লোকদের চিহ্নিত করে পেরেছি। তাদের আর সুযোগ দিচ্ছি না বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা দেখে দেখে কাজ করবো। তবে কখনো একশোতে একশো কাজ করতে পারবো না। সেটা ভুলে হোক আর জেনেই হোক। দুয়েকটা ভুল হতে পারে। ইচ্ছাকৃত দুষ্টামি যাতে করতে না পারে, সেটা আমরা খেয়াল রাখবো। সেজন্য আমাদের আইটির প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব-বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা: ব্যবসায় এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ বিষয়ক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ, পরামর্শদাতা হুসেইন সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এটা ‘গ্যাম্বলিং মার্কেট’ না। ইকুইটি বেইজড মার্কেটের কারণে গ্যাম্বলিং মার্কেট হয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরনে এফডিআরের বিকল্প হিসেব বন্ড, মিউচু্য়াল ফান্ড এবং সমস্ত ব্যাংকগুলোকে পারপিচু্য়াল বন্ডের মাধ্যমে ক্যাপিটাল উত্তোলনে সুযোগ দিয়েছি।

তিনি বলেন, গ্রাজুয়্যালি বন্ড মার্কেট ভালো হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য সুকুক বন্ড চালু করবো। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে দুবাইসহ বিশ্বের অনেক দেশের সুকুক বন্ড নিয়ে কাজ করবো। আগামী ২ বছর পর আপনারা বিভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন।

ফেসবুকে অনেকে আইপিও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দেখেছি বেশ কিছু কোম্পানি ২-৩ বছর আগে আইপিওতে আবেদন করেছে। তাদের আবেদন জমা পড়ে আছে। তারা বারবার অ্যাকাউন্টস দিয়ে যাচ্ছে। আমরা যাদের অনুমোদন দেওয়া দরকার দিয়ে দেব। আগামী ১ মাসের মধ্যে পুরাতন দরখাস্তগুলো শেষ হয়ে যাবে। ভালো-ভালো কোম্পানি আনার জন্য কাজ চলছে।

‘ভালো পরিবেশ থাকলে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা থাকলে তখন খারাপ কোম্পানিগুলো নিরুৎসাহিত হবে। ভালো কোম্পানিগুলো আসবে। সরকারি দুটি কোম্পানি আসার পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের সময়ে একটি ব্যাংকের আইপিওর আবেদন করেছে। এইটিকে দ্রুত দিয়ে দিবো। এখানে আইপিও পেতে আর দেরি করতে হবে না।’

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম বলেন, একদিকে আমরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেবো। অন্যদিকে দেশের ব্যবসার কথাও চিন্তা করতে হবে। তাদের জন্য ভালো ভালো কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেবো, উদ্যোক্তারা যাতে খুব সহজে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। তা না দিলে কোম্পানিগুলো বেশি সুদে ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে পড়ে, রুগ্ন হয়ে পড়ে; ফলে কোম্পানির উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব লোকের চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা পাচ্ছি। এনবিআরেরও সহযোগিতা পাচ্ছি। কিন্তু এনবিআরের আরেকটু সহযোগিতা চাচ্ছি। এনবিআরের মতই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের যদি আরেকটু সহযোগিতা পাই, আমরা যদি কর রেয়াত সুবিধা দিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশে আনতে পারি। দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। সেটা নিয়ে কাজ করছি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য ভালো ভালো আইপিও আনা, ভালো ভালো বন্ড সারকুলেট করতে পারবো। কোভিডের কারণে যাদের সঞ্চয় কমেছে তাদের জন্য আয় বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। ইনভেস্টর বৃদ্ধির জন্য আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন এবং দুবাইসহ বিশ্বের বড়বড় দেশগুলোতে রোড শো করবো।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে কেউ একদিন শেয়ার বেশি বিক্রি করবে, কম কিনবে- ফলে কোনো দিন সূচক বাড়বে-কমবে। আমরা শেয়ার ব্যবসা করি না। এটা স্টক এক্সচেঞ্জে হয়। মানুষ যেদিন শেয়ার বিক্রি করে অর্থ ক্যাশ করে নেয় তখন সূচকের পতন হয়। আবার যখন বিনিয়োগ করে তখন সূচক বেড়ে যায়। এটাতে তো আমাদের করার কিছু থাকে না। তারপও আমরা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের স্বার্থরক্ষাই আমাদের কাজ। আমরা নিরাপত্তা দেবো। এখন থেকে আপনারা শুধু সেকেন্ডারি মার্কেটের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। অন্যান্য সেক্টরে বিনিয়োগ করবেন।

এখন আর ওইভাবে ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের নিজেদের কোনো এজেন্ডা নেই। একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

পুঁজিবাজারের যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে না, সেসব কোম্পানিকে ভুগতে (সাফার) হবে। সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে কোম্পানিগুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সময় শেষ হলেই আইন অমান্যকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার না থাকার কারণে ১৭ জন পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ৩০ শতাংশ শেয়ার যেসব কোম্পানির থাকবে না, তারাও পার পাবে না। তাদের ভুগতে (সাফার) হবে।

অর্থসূচক/এমআই/কেএসআর