করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপি জ্বলেপুড়ে মরছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের/ফাইল ছবি

দেশ দুঃসময় পার করছে না, বিএনপির রাজনীতিতে চরম দুঃসময় চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপি জ্বলেপুড়ে মরছে। বিএনপি বলেছিল মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। কিন্তু যেরকম পরিস্থিতি এখনো আসেনি। এজন্য তাদের কষ্ট হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বই বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

‘দেশ দুঃসময় পার করছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ ধরনের মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারি বিশ্বজুড়ে সংকট সৃষ্টি করছে। সমৃদ্ধ দেশগুলোকেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ সীমিত সুযোগ নিয়ে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হলেও একটি দল অবিরাম সমালোচনা করে যাচ্ছে।’

করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য দ্বিতীয় তরঙ্গ মোকাবিলায় সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্রষ্টার অপার কৃপা ও সরকারের অবিরাম প্রচেষ্টায় সংক্রমণ এখনও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বিএনপি এ সময়েও দেশে চরম দুঃসময় দেখতে পাচ্ছে। তারা বলেছিল, মানুষ বিনা চিকিৎসায় রাস্তায় মরে পড়ে থাকবে। সে রকম পরিস্থিতি আসেনি বলেই কি তাদের কষ্ট হচ্ছে।

‘তারা সম্ভবত সে রকম দুঃসময়েরই প্রত্যাশা করছে। জীবন-জীবিকার সমন্বয় করে অর্থনীতি আবার সচল হতে শুরু করেছে, রফতানি, প্রবাসী আয়, রিজার্ভসহ অন্যান্য আর্থ-সামাজিক সূচক গুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। অর্জিত হয়েছে ঈর্ষণীয় সমৃদ্ধি। এসব অর্জন তারা দেখে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা নিছক কোনো সরকারপ্রধান নন। তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। যার ভাবনায় পরবর্তী নির্বাচন নয়, তার ভাবনার আকাশজুড়ে পরবর্তী জেনারেশন। তাই গ্রহণ করেছেন শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা। তিনি নিছক কোনো শাসক নন, নিজেকে দেশের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিবার মেধা, সাহস ও সততার প্রতীক। সরকারপ্রধান হয়েও অতি সাধারণ জীবনযাপন তাকে করে তুলেছে অসাধারণ একজন। তার সন্তানদের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাতে দেননি। সরকারপ্রধানের সন্তান বলে কোনো প্রশ্রয় পাননি, সৃষ্টি করেননি হাওয়া ভবন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারমান রকিবুর রহমান।

এতে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস মোজাফফর হোসেন পল্টু, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বডুয়া, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, তরফদার রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধরী, সাংগঠনিক সচিব কে এম শহিদ উল্যা ও দপ্তর সম্পাদক আসাদুল হক।

অর্থসূচক/কেএসআর