যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলাকারীর বিচার চাইলেন শাফিন

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইংলিশ স্পোকেন ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষণ সেন্টার ‘শাফিন’স এর প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা শেখ বুলবুল আহমেদের (শাফিন) বিরুদ্ধে ভুয়া যৌন হয়রানির মামলা করে একটি কুচক্রি মহল। অথচ মামলার এজাহারে যে সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয় সে সময় দেশেই ছিলেন না শাফিন।

এমনকি মামলার কথিত বাদি নারী সাদিয়া আফরিনের কোনো অস্তিত্বই খুজে পায়নি পুলিশ। মামলায় একাধিক বার আদালতে হাজিরা দেন শাফিন। কিন্তু বাদী সাদিয়া আফরিন একবারও আদালতে আসেননি। অবশেষে মামলার আসামি শেখ বুলবুল আহম্মেদকে (শাফিন) মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

এ প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলা দিয়ে সম্মানহানী ও ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেখ বুলবুল আহমেদ (শাফিন)। এ সময় তিনি এ মিথ্যা মামলা দেওয়ার সাথে জড়িত এবং এখনো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা শাফিনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে তাদের বিচার দাবি করেন।

শাফিন বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ইংলিশ স্পোকেন ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষণ সেন্টার ‘শাফিন’স এর মাধ্যেমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি পেশাজীবীদের ইংরেজি ভাষা শিখিয়ে আসছেন। কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে ফ্রি ইংলিশ স্পোকেন শিখিয়ে আসছেন। যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিনামূল্যে ইংরেজি ভাষা শিখতে পারছে।

সম্প্রতি শেখ বুলবুল আহমেদের (শাফিন) ইউটিউব চ্যানেলটি দেশের শীর্ষ চ্যানেলে পরিনত হয়, চ্যানিলটিতে সাবসক্রাইবার ৬ লাখেরও বেশী। তবে একটি কুচক্রী মহলের চোখ পড়ে তার ব্যবসায়িক সাফল্য ও জনপ্রিয়তায়। গত বছর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে শেখ বুলবুল আহমেদের সাথে স্যুপে ব্যাটারি পাওয়া নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ওই ঘটনার পরই একটি মহল তার ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সম্মানহানীর জন্য নানা তৎপরতা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাইয়ে তার নামে তারই কোচিং সেন্টারের ছাত্রী পরিচয়ে এক তরুনী যৌন হয়রানীর মামলা করে। যা ইতিমধ্যেই আদালতে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

সাদিয়া আরফিন নামক ওই তরুণী বাদী হয়ে মিরপুর পল্লবী থানায় গত বছরের ১০ জুলাই শেখ বুলবুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলার চার্জশিট নম্বর ১২০ যা ওই বছরের ২ অক্টোবর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

শেখ বুলবুলের দাবি, কুচক্রি মহলটি ওই তরুণীকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা ওই তরুণীকে দিয়ে একটি চ্যানেলের সহযোগিতা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই আমাকে অপরাধী করে সংবাদ পরিবেশন করে যা আমার ইমেজকে আরো ক্ষুন্ন করেছে। এ কুচক্রী মহলের বিচার দাবি করেন তিনি।

শেখ বুলবুল আহমেদ বলেন, আমাকে হয়রানী করতে ও সম্মানহানীর জন্য অদৃশ্য ওই মহল বেশ কিছু প্রভাবশালী ইউটিউবারকে কাজে লাগায়। এমনকি বেশ কিছু গণমাধ্যমেও আমাকে দোষী করে সংবাদ প্রকাশ হয়। অথচ ঘটনার পুরো সময়ই আমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলাম। যে তারিখে হয়রানীর অভিযোগ আনা হয়েছে সে তারিখে আমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলাম।

শেখ বুলবুল বলেন, এ ঘটনায় এখনও আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। নিকটজনদের কাছেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমি আমার হারানো সম্মান ফিরে পেতে চাই। আমার প্রতিষ্ঠানটিকে আগের মত করে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, কথিত সাদিয়া আরফিন মামলায় উল্লেখ করেন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর আমি তাকে যৌন হয়রানি করি। অথচ উল্লেখিত তারিখে আমি দেশেই ছিলাম না। তার চার দিন পূর্বে ৬ নভেম্বর আমি বিদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর আমি বিদেশে অবস্থান করছিলাম।

‘বাদী সাদিয়া আরফিনের অভিযোগটি যে মিথ্যে ছিলো তার প্রমাণ করতে মহামান্য আদালতের কাছে আমার পাসপোর্টের মূলকপি পেশ করি মহামান্য আদালত পাসপোর্ট এর মূলকপি দেখে আমাকে জামিন প্রদান করেন।’

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই তিনি ইউটিউবের মধ্যমে তার সম্মানহানী করায় তাহসিনেশন ও নাসিম নামে দুই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বাদী শিক্ষার্থীর খোঁজ না পাওয়ায় মামলা করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

অর্থসূচক/কেএসআর