ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৬০ লাখ ছাড়াল

ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিমাণ ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেল। মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৮৫ হাজারে। তারই মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়ে দিলেন, হার্ড ইমিউনিটি বা গোষ্ঠীর ভিতর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক আছে।

ভারতে এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার কমার কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৮২ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ করোনায় মারা গিয়েছেন। মোট আক্রান্ত ৬০ লাখ।

এই পরিস্থিতিতে কোনও কোনও চিকিৎসক বলছেন, দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে শুরু করেছে। হার্ড ইমিউনিটির অর্থ, গোষ্ঠী বা কমিউনিটির ভিতরে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ভাইরাল অসুখের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, তা যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন ছাড়াই এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। একেই হার্ড ইমিউনিটি বলা হয়। চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে বলেই এখনো পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। অ্যান্টিবডি টেস্ট করে দেখা যাচ্ছে, অনেকের শরীরেই করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সংস্থা আইসিএমআর একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে, হার্ড ইমিউনিটি এখনো তৈরি হয়নি। হার্ড ইমিউনিটি তৈরি না হলে শীতে ভারতের করোনা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ দিকে করোনা নিয়ে এখন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হচ্ছে, অত্যন্ত সফল ভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মোদি সরকার আদৌ করোনার মোকাবিলা করতে পেরেছে কি না, তা নিয়েই। প্রায় দুই মাস লকডাউন করেছিল দেশটির সরকার। সে সময় দেশ জুড়ে সংক্রমণের হার ছিল হাজারের ভিতরে। কিন্তু সরকার যখন লকডাউন তুলে নিতে শুরু করল, তখনই সংক্রমণ বেড়ে প্রায় দৈনিক লাখে গিয়ে পৌঁছল। অথচ তা নিয়ে মোদি সরকারের কোনও মাথা ব্যথা নেই। গত এক মাসে সমস্ত অফিস খুলে গিয়েছে। স্কুল কলেজ খোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় শীতে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে বলেই মনে করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

বলা হচ্ছে, সামনের বছরের মাঝামাঝি সময়ের আগে ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে না। ১৩০ কোটি মানুষের ভ্যাকসিন পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে আগামী শীতে মৃত্যুর হার আরো বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ।

 

অর্থসূচক/এএইচআর