লেনদেন ও সূচক কমলেও বাজার মূলধন বেড়েছে

Weekly-Market.jpg

তিনদির পতন আর দুদিন সূচকের ঊর্ধমুখী ধারায় সেপ্টেম্বর মাসের আরও একটি সপ্তাহ পার করলো দেশের পুঁজিবাজার। আলোচিত সপ্তাহে (২০-২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন এবং মূল্যসূচক দুটোই কমেছে। তবে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের বদৌলতে বেড়েছে বাজার মূলধন।

আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৩ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৩৫কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৬৩৬ টাকা। অর্থাৎ টাকার অংকে লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে ১ হাজার ৬১কোটি ৬০ লাখ ৫১ হাজার ২৪৩টাকা কমেছে। যা শতাংশের হারে কমেছে ১৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ টাকা।

ফলে আগের সপ্তাহের চেয়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৯১৪কোটি টাকায়।এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিলো ১ হাজার ১২৭কোটি।

লেনদেনের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। এ সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৫৯টি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১২৪টির। আর ১০ কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল অপরিবর্তিত।

আর তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ১২৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে কমেছে ডিএসইর অন্য দুই সূচক।

বিদায়ী সপ্তাহের সব সূচক নেতিবাচক হলেও ওয়ালটন হাই-টেকসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন ৯ হাজার ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ৫১৪ টাকা।

বাজার বিশ্লেষনে দেখা গেছে, বিদায়ী এই সপ্তাহেও জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম বেড়েছে বেশি। ফলে বিনিয়োগকারীদের জেনে বুঝে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মোঃ রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ‘জেড’ ক্যাটাগরি ও নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা খুব বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

অর্থসূচকের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এ পরামর্শ দিয়ে বলেন, উর্ধ্বমুখী বাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। তাদের অনেকে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল তথ্য কিংবা বর্তমান পারফরমেন্স কি না জেনেই গুজবে কান দিয়ে বা হুজুগে পড়ে শেয়ার কেনা-বেচা করেন। বিনিয়োগকারীদের এই অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা গেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকে নতুন শেয়ারের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়েন। তারা তাদের কাছে থাকা অন্য কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে নতুন শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। তাদের এই অতি আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নতুন শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এই মূল্য টেকসই হয় না। ফলে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা করতে সক্ষম হলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই নতুন শেয়ার কেনার জন্য হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির আগে ভালোভাবে ভাবতে হবে। বিনিয়োগকারীর হাতে থাকা শেয়ারের চেয়ে নতুন শেয়ার ফান্ডামেন্টাল দিক থেকে বেশি ভাল কি-না নিজেই তা বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। সাধারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ার কেনার কথা নয়। নিশ্চয়ই তাদের হাতে থাকা শেয়ার মৌলভিত্তির দিক দিয়ে বেশ ভাল। এসব কোম্পানি পুরনো বলে তাদের পারফরম্যান্স পরীক্ষিত। কিন্তু নতুন শেয়ারের পারফরম্যান্স পরীক্ষিত নয়। তাই পুরনো শেয়ার বেচে নতুন শেয়ার কেনার আগে কয়েকবার ভেবে নেওয়া উচিত।Weekly-Market.jpg

মোঃ রকিবুর রহমান বলেন, কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে ওই কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে জানা, ব্যবসার ভবিষ্যত সম্ভাবনা, উদ্যোক্তাদের সুনাম, গত ৫ বছরের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস), মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও), লভ্যাংশ ঘোষণার হার, মুনাফায় প্রবৃদ্ধির হার, কোম্পানির ফ্লোটিং শেয়ারের পরিমাণ, শেয়ারের আরএসআই ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা দরকার।

তিনি বলেন, যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের আকার বড়, ফ্লোটিং শেয়ার বেশি সেসব কোম্পানির শেয়ারের দামে বড় উত্থান-পতন হয় না। কারসাজি করা কঠিন হয়। তাই এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা তুলনামূলক নিরাপদ।