সৌদিতে নতুন রাজনৈতিক দল, চ্যালেঞ্জের মুখে রাজতন্ত্র

বিদেশে নির্বাসনে থাকা সৌদি আরবের বিক্ষুব্ধ নেতারা রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। তাঁরা কেউ আছেন যুক্তরাজ্যে, কেউ আমেরিকা, কানাডা বা অন্য কোনো দেশে। সকলেই সৌদি আরব থেকে নির্বাসিত। তাঁরা সকলে মিলে একটা রাজনৈতিক দল গঠন করলেন।

যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত সৌদি মানবাধিকার কর্মী ইয়াহিয়া আসিরি জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য সৌদি আরবে গণতন্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই নতুন দলের নাম রাখা হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি। দলের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে সরকার সহিংসতা ও দমননীতি নিয়ে চলেছে। রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অযথা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মেরে ফেলাও হচ্ছে।

আসিরি হলেন বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার। তিনি বলেছেন, খুব সংকটজনক সময়ে এই দল গঠন করা হলো। দলের মুখপাত্র ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষাকর্মী এম আল-রশিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন রাজ-পরিবারের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো শত্রুতার সম্পর্ক নেই। কিন্তু সরকারি দমন সমানে বাড়ছে। তাই এটাই দল গঠনের পক্ষে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই নতুন রাজনৈতিক দল সৌদির শাসকদের সমস্যায় ফেলে দিতে পারে। কারণ এখন অশোধিত তেল বিক্রি করে আয় অনেকটাই কমেছে। করোনার কারণে আগের চাহিদা নেই বলে এই অবস্থা। তার ওপর তাঁরা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনও আয়োজন করছেন। নভেম্বরে এই সম্মেলন হবে। এছাড়া রাজা ও বর্তমানে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমনকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর বিরোধীদের নানা কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার করেছেন। ২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাতে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এই অবস্থায় ৮৪ বছর বয়সী রাজা সালমন জাতিসংঘে ভিডিও-ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইরানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে শান্তিভঙ্গ করছে। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, ডিডব্লিউ

অর্থসূচক/এএইচআর