আকামার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে এখনও সাড়া দেয়নি সৌদি

করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে এখনো সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার ভিসা ও আকামার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে সৌদির কাছ থেকে এখনো এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুরোধ জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনও আশাবাদী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সের সব বিমানকে আসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমানও প্রস্তুত আছে।

আটকে পড়া প্রবাসীরা আন্দোলন করছে জানতে পারলে সৌদি সরকার তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাই আন্দোলন না করারও অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, টিকিটের জন্য টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ করেন সৌদি প্রবাসীরা। সকাল থেকেই রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় ভিড় করতে থাকেন তারা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে অবস্থান নেন প্রায় এক হাজার সৌদি প্রবাসী।

সৌদি আরবে যেতে উড়োজাহাজের টিকিট না পাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না তারা। তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে যেতে না পারলে তাদের চাকরি হারাতে হবে। তাই চাকরি বাঁচানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা ছাড়া পথ না ছাড়ার ঘোষণা তাদের।

এদিকে, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের ইকামা বা ভিসার মেয়াদ অন্তত তিন মাস বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সৌদি আরব দূতাবাস ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে ওই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন জারির আগে দেশে আসা কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী আটকা পড়েছেন। বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় লকডাউন শেষে তারা ফিরতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কয়েক দফায় ছয় মাস মেয়াদ ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে। সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এ সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না ফিরতে পারলে তারা আর সৌদিতে ফিরতে পারবেন কী-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

এদিকে সৌদি আরবে কাজে ফিরতে প্রবাসীদের জন্য ঢাকা থেকে শুধু সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের দু’টি ফ্লাইট চলছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিচ্ছে না সৌদি আরব। আগামী ১ অক্টোবরের আগে বিমানের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

অর্থসূচক/কেএসআর