পুতুল দেখুন ফ্রিতে, পাশে থাকুন আদিমের

গণ-অর্থায়নে নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আদিম’-এর চিত্রায়ণ বেশ আগেই শেষ করেছেন নির্মাতা যুবরাজ শামীম। বর্তমানে রয়েছে শুটিং পরবর্তী পর্বে। সেই কাজ শেষ করতে নিয়েছেন অভিনব উদ্যোগ। যুবরাজের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পুতুল’ প্রদর্শিত হচ্ছে দেশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম লাগভেলকিতে। সেখানেই ছবিটি দেখে দর্শক ইচ্ছে মতো দিতে পারেন শুভেচ্ছা মূল্য, সেই টাকায় হবে ‘আদিম’-এর বাকি কাজ।

পোস্টারে ‘পুতুল’ ও দৃশ্যে ‘আদিম’

‘পুতুল’ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, “পুতুল আমার ছেলেবেলায় ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর নির্মাণ শুরু করি ২০১২ সালে, কাজ শেষ হয় ১৪ সালে।”

নির্মাতা আরও বলেন, “এখনকার মতো তখনো কোন প্রডিউসারের অপেক্ষায় না থেকে হাতে একটা হ্যান্ডিক্যাম নিয়ে শুট করতে নেমে পড়ি। আদিমের মতো এই সিনেমাতেও সকলেই অপেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রী।”

‘পুতুল’ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত শেখ রাসেল জাতীয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায়। এ ছাড়া লন্ডন ও মিসরের দুটি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

‘আদিম’ প্রসঙ্গে যুবরাজ জানান, বর্তমানে শব্দ ও রঙের কাজ চলছে। সম্পাদনা ও শব্দে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-জয়ী সম্পাদক সুজন মাহমুদ করছেন শব্দ ও রঙের বিন্যাস।

যুবরাজ বলেন, “আদিমের এই পর্বের টাকার জোগান দিতেই লাগভেলকির এই আয়োজন।” দশ টাকা থেকে শুরু ইচ্ছে অনুযায়ী সাহায্য করা যাবে। সিনেমাটি লাগভেলকির ওয়েবসাইটে দেখা যাবে এবং সেখানেই ডোনেট অপশন রয়েছে।

এর আগে ইউনিট প্রতি ৫০০০ টাকায় শেয়ার বিক্রি করে ‘আদিম’-এর চিত্রায়ণ সম্পন্ন করেন যুবরাজ শামীম। আশা করছেন, এবার অনেকে এগিয়ে আসবেন পাশে।

সিনেমাটি নির্মাণ করতে সেই সময় তিনি টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে স্থায়ীভাবে দীর্ঘ সাত মাস বসবাস করেন এবং বস্তি থেকেই তার সিনেমার চরিত্রদের খুঁজে বেড়ে করে তাদেরকে দিয়ে অভিনয় করান। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা জানান, আদিম’এ কোন প্রফেশোনাল আর্টিস্ট নেই, যে যার নিজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার করে আদিম’র শুটিং শেষে যুবরাজ নিজেই সিনেমার সম্পাদনার কাজ শুরু করেন।

অর্থসূচক/এমএস