চোরাই ফোনের আইএমইআই নম্বর বদলে বিক্রি, গ্রেফতার ২০

0
37

চুরি করা মোবাইল ফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আইএমইআই পরিবর্তনের পর স্বল্প দামে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রি করতো তারা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্বের একটি টিম তাদের আটক করে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার।

পুলিশের ধারণা, দুটি কারণে তারা ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করতো। প্রথমত, চুরি করা ফোনগুলো স্বল্পদামে বিক্রি। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে এসব ফোন ব্যবহার করতো সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার এ বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার এই চক্রের ১২ সদস্যকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মুরাদ খান (২৩), লাবলু হাসান (২০), আল আমিন ওরফে অনিক (২০), বশির আলম শুভ (৩০), মিম টেলিকম নামে একটি দোকানের মালিক আব্দুল মালেক (৩২), তামিম (২০), শাহ আলম (৩৬), স্বপন (৩৪), জাহাঙ্গীর আলম (২৬), ইমাম হাসান (২২), আরিফ (৩৪) এবং আল আমিন (২০)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া ২৬৫টি মোবাইল ফোন এবং আইএমইআই পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ৯টি ডিভাইস।

তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে- বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বল্পদামে চোরাই ফোনগুলো কেনে মুরাদ ও লাবলু। তারপর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য সেগুলো দেওয়া হয় অনিক, বশির ও মালেকের কাছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সিআইডিকে জানিয়েছে, গুলিস্তান আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের মাসুদ টেলিকম ও কবির টেলিকম নামের দুটি দোকান থেকে তারা আইএমইআই পরিবর্তন করার ডিভাইস কিনেছে। পাশাপাশি, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছে সিআইডি। তাদেরকে ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আখতার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের একটি দল মঙ্গলবার রাজধানীর লালবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রির সঙ্গে জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করে।

তারা হলো- জুয়েল (৩২), মাসুদ (২৫), দুলাল (৪৫), বিপ্লব হোসেন (৩৮), সেলিম (৩০), শাজাহান মিয়া (৩৫) ও খোকন (৪০)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন। এসব চোরাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। এছাড়া, সাধারণ মানুষের এসব ফোন কিনে অনেকসময় অকারণে অপরাধী সাব্যস্ত হন।

বিপদ থেকে বাঁচতে এসব চোরাই মোবাইল ফোন না কেনার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। সংস্থাটি বলছে, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা গেলে ভবিষ্যতে তা আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হলে মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য।

অর্থসূচক/কেএসআর