যেখানে শীর্ষে মাহমুদউল্লাহ, দুইয়ে মুশফিক

0
137
Mushfiqur & Mahmud

আধুনিক সময়ের ক্রিকেটে একই সাথে তিনটি ফর্ম্যাটে খেলা এত সহজ নয়। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বেছে নেন হয় রঙিন পোশাকের ক্রিকেট (ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি) অথবা তারা খেলেন সাদা পোশাকের লঙ্গার ভার্শনের ক্রিকেট। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাটেই। একই সঙ্গে তিন ফরম্যাটে সমান তালে খেলে যাচ্ছেন এই দুই তারকা খেলোয়াড়।

Mushfiqur & Mahmudমুশফিকুর রহিম ২০১৮-১৯ মৌসুমে তিন ফরম্যাটে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। মুশফিক ১১টি টেস্ট, ৩৮৭ ওয়ানডে এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। তিনি সব ফরম্যাটে দলের হয়ে ৯৬ শতাংশ ম্যাচ খেলেছিলেন। অপরদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রয়েছেন তালিকার শীর্ষে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সকল ফরম্যাট মিলিয়ে ৯৯ শতাংশ ম্যাচ খেলেছেন দেশের হয়ে। তবে সম্প্রতি টেস্ট থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

অপরদিকে এই তালিকায় থাকার সম্ভাবনা ছিল দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এবং দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কিন্তু গেল দুই বছর ব্যক্তিগত কারণবশত এবং ইনজুরিতে পড়ার কারণে বেশ কিছু ম্যাচ খেলা হয়নি তামিমের। অপরদিকে গেল বছরের অক্টোবর থেকে সকল প্রকার ক্রিকেট হতে নির্বাসনে রয়েছেন সাকিব।

এই তালিকার অন্যন্য ক্রিকেটাররা হলেন, রস টেইলর (নিউজিল্যান্ড), কুশাল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা), জো রুট (ইংল্যান্ড), বাবর আজম (পাকিস্তান) এবং রোহিত শর্মা (ভারত)। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের সব ফরম্যাটে খেলার প্রবণতা ততই কমতির দিকে আসছে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বিশ্বের প্রায় ৫৭ শতাংশের বেশি খেলোয়াড় তিন ফরম্যাটেই ক্রিকেট খেলতেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে। আর ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৪৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে তিন ফরম্যাটেই খেলা ক্রিকেটারদের পরিমাণ।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার কথা। দেশটির ৫২ শতাংশ ক্রিকেটার ২০০৮-২০০৯ মৌসুমে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই খেলতো। কিন্তু বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশে। অজিদের অনুসরণ করে পাল্লা দিতে কমেছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটেও।

কিন্তু ভিন্ন গল্প বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসে। ২০০৮-০৯ সালের দিকে বাংলাদেশের ৫৭ শতাংশ ক্রিকেটার জড়িত ছিলেন ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের সঙ্গে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে এসে অভাবনীয়ভাবে সেই মাত্রা গিয়ে দাঁড়ায় ৭৪ শতাংশে। কিন্তু গেল কয়েক বছরে তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে ৬১ শতাংশে এসে ঠেকেছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই নিতুন খেলোয়াড় বানানোর প্রয়োজন বাড়ছে। কেননা এখনই যদি প্রস্তুত করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে তিন ফরম্যাটে খেলার জন্য মুশফিকের মতো খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

 

 

অর্থসূচক/এএইচআর