নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক

0
97
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। ফাইল ছবি

ভারতের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামিতে কেমন হবে তা দেশটির লোকসভা নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। তিনি মনে করেন, নির্বচনে সরকার পরিবর্তিত হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও কিছু পরিবর্তন আসবে। আর তার প্রভাব পড়বে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্কের ওপর। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সাথে দেশটির অব্যাহত সম্পর্কের ধরনও পাল্টে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বুধবার দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমন কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় ভারতের জাতীয় নির্বাচনে যদি মোদি সরকার আসে তাহলে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন থাকবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেন।

প্রসঙ্গত, টানা ৩৬ দিন ধরে চলা দেশটির লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ১৬-১৭ তারিখে জানা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকার পরিবর্তন হলে পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হতে পারে।

তাই বাংলাদেশ ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক আগামিতে কেমন হবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন পঙ্কজ শরণ।

তিনি বলেন, মে মাসের ১৬-১৭ তারিখে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এতে যদি মোদি সরকার ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের এই কয়েকদিন ধৈর্য ধরতে হবে। দেখতে হবে মোদি সরকার কি ধরনের বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করে।

তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের সাথে তার সম্পর্ককে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দু’দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে এ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের দিক থেকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধশালী হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। কাজেই ভারত সরকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে দু’দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বেগবান করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ভারতের এক হাজার মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এক হাজার মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন ঋণ আর বাকি ২০ মিলিয়ন ভারত সরকার বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দিচ্ছে। এই ৮০০ মিলিয়ন ঋণের মধ্যে দু’দেশ ১৫টি প্রকল্পে ৭৯৪ মিলিয়ন বিনিয়োগ কার্যক্রম ঠিক করে ফেলেছে।

নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

এদিকে বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারত সরকার এ বছর পদ্মা সেতু তৈরিতে ১৬ শ কোটি টাকা দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে পরিকল্পনা মন্ত্রীর এটিই প্রথম বৈঠক।

এইচকেবি/