ডাচ বাংলা ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ

dbblডাচ বাংলা ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা খোয়া যাচ্ছে। গ্রাহক নিজে টাকা না তোলা তত্ত্বেও কমে যাচ্ছে তার হিসাবের স্থিতি। গ্রাহকরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না প্রায়শই এমনটি কেন হচ্ছে। অনেকের ধারনা জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এটি চেকের মাধ্যমে নয়, এটিএম কাডে বুথ থেকে টাকা উত্তোলন দেখিয়ে এটি করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছে চাননি।

 

ব্যাংকটির ধানমন্ডি মিরপুর রোড শাখার একজন গ্রাহক তার হিসাব থেকে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। একই ধরণের অভিযোগ করেছেন মিজান (ছদ্ম নাম) নামের টঙ্গী শাখার অপর একজন গ্রাহক। তিনি তার একাউন্ট থেকে কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। তারা দু’জনই অভিযোগ করেছেন, উভয় ক্ষেত্রে  কার্ডের পিন নম্বর কৌশলে চুরি করে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে তারা মনে করছেন।

কিছু দিন আগে কার্ডের হিসাব জানতে ডাচ বাংলা ব্যাংকের কল সেন্টারে ফোন করেন মিজান। সেখান থেকে তার কাছে কার্ডের নম্বর, একাউন্ট নম্বর এবং পিন নম্বর চাওয়া হয়। তার একাউন্ট জানতে এসব তথ্য দরকার বলে কল সেন্টার থেকে জানানো হয়। তিনিও সরল বিশ্বাসে সব তথ্য দেন।

মিজান অর্থসূচককে বলেন, এর পর কয়েকদিন পরপর তার একাউন্ট থেকে ৪০০ টাকা করে খোয়া যেতে থাকে। ৫০০ টাকার ওপরে তুললে মোবাইলে পিন নম্বর চলে যায় বলে প্রতিবার ৪০০ টাকা করে তোলা হয়েছে বলে তিনি জানান। পরে তিনি পুনরায় পিন নম্বর পরিবর্তন করে এ থেকে প্রতিকার পেয়েছেন। এর সাথে ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত বলে তিনি জানান।

একই ধরণের অভিযোগ করেন শাহিদা (ছদ্ম নাম) নামের ধানমন্ডি শাখার অপর এক নারী গ্রাহক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ৫ অক্টোবর তার একাউন্ট থেকে দুই বারে ২৬ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। তিনি লেনদেনের তালিকা থেকে জানতে পারেন ওই দিন বসুন্ধরার এক এটিএম বুথ থেকে তার একাউন্ট থেকে এ টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেদিন ঢাকাই ছিলেন না। টাকা তোলার সময় তার মোবাইলেও কোন ম্যাসেজ আসেনি। কিন্তু অন্য সময় ম্যাসেজ আসতো বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে তিনি ডাচ বাংলা ব্যাংকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে কোন প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরনাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন। ডাচ বাংলা ব্যাংক তার অভিযোগ নিস্পত্তি না করে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে বলে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। এর সাথে ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. সামশি তাবরিজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং অর্থসূচকের ওই সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরে তিনি বলেন, ‘ গ্রাহকের অভিযোগ গ্রাহক করবে। সেটা তারা লিখিত বা ফোনে দিতে পারে। আপনি ফোন করেছেন কেন?’

সেসময় তাকে অর্থসূচক সংগৃহীত অভিযোগগুলোর কথা বললে তিনি বলেন, ‘তারা আপনার কাছে গিয়েছে কেন আমি জানিনা। তারা আমাদের কেন অভিযোগ করছে না?’

অথচ গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

এবিষয়ে এই সব গ্রাহকদের অভিযোগ দাখিলের তারিখ উল্লেখ উল্লেখ করে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়।

তার কাছে কাছে জানতে চাওয়া হয় এটা কি কোনো প্রাযুক্তিক জটিলতা কীনা? কিংবা এর সাথে ব্যাংকের অভ্যন্তরের কেউ জড়িত থাকতে পারে কীনা?

তার কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়, এ বিষয়ে তারা সুস্পষ্ট ভাবে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

কিন্তু তিনি কোনো প্রশ্নেরই উত্তর না দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।