খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একনেকে ৭ প্রকল্প অনুমোদন

0
25

খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ১৩২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন (ঋণ) ৯৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যান্য মন্ত্রী এবং সচিবগণ শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অবস্থান করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দেবে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- পরামর্শক সেবা গ্রহণ, দুটি ৬০ এমএলডি ও ৩০ এমএলডি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৭৩ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, আটটি স্যুয়ার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, ৭৭ কিলোমিটার সার্ভিস লাইন স্থাপন, ৩০ হাজারটি হাউজ কানেকশন, একটি ওয়েট ল্যান্ড নির্মাণ, ৫২ কিলোমিটার বিদ্যমান ইউটিলিটির পুনর্বিন্যাস, স্যুয়ার ক্লিনিং ইক্যুইপমেন্ট ক্রয়, ল্যাবরেটরি ইক্যুইপমেন্ট ক্রয় এবং এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪১ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হবে।

জানা গেছে, খুলনা বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম এবং দ্বিতীয় বন্দরনগরী। রুপসা ও ভৈরব নদীর তীরবর্তী অংশে শহরের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রসাতি হয়েছে। খুলনা শহর ভৈরব নদীর দীর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরের উত্তর-পশ্চিম অংশে নিচু ও বিল অঞ্চল অবস্থিত। খুলনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে জোয়ারভাটা হয়। খুলনা শহরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বাস। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় শহরের প্রায় অধিকাংশ লোকই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজস্ব ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে পয়ঃনিষ্কাশনে নগরবাসীর মধ্যে কিছু সংখ্যক কূপ পদ্ধতি এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সেপটিক ট্যাংক পদ্ধতি ব্যবহার করছে। আর সেপটিক ট্যাংক ও কূপগুলোর অধিকাংশই রাস্তার পাশে অবস্থিত এবং উন্মুক্ত পরিবেশে ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব ট্যাংক ও কূপের পানি এবং ময়লা উন্মুক্ত ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। বৃষ্টিপাতের সময় গৃহস্থালির বর্জ্য এবং ট্যাংক ও কূপের বর্জ্য একসঙ্গে মিশে রোগজীবাণুর প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশন ছোট কন্টেইনার গাড়ির মাধ্যমে অনিয়মিতভাবে সেপটিক ট্যাংক থেকে পয়ঃবর্জ্য পরিবহন করে সেনিটারি ল্যান্ড ফিল্ডে অপসারণ করছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা নগরীরর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে এডিবির অর্থায়নে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট মাস্টার প্ল্যান ফর খুলনা সিটি করপোরেশন’ শীর্ষক একটি প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে এটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেই আলোকে স্যুয়ারেজ পাম্প স্টেশন ও সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল ‘খুলনা শহরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এই অধিগ্রহণ করা জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পসমূহ হলো: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৩ টি প্রকল্প যথাক্রমে- রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বাসন প্রকল্প, খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প ও ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেস্ট (আইএসপিপি) -যত্ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং আমার বাড়ি আমার খামার (৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্প।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটি হলো- তুলা গবেষণা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প এবং মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন (২য় পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর