চায়ের দেশে ঘুরে আসুন
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ভ্রমণ

ঘুরে আসুন চায়ের দেশে

tee4ভ্রমন এমনই একটি বিনোদন, যার সাথে কোন কিছুর-ই তুলনা করা যায় না ! আর সেই ভ্রমণটা যদি নিজের মনের মতো হয় তাহলে তো আর কোন কথা-ই থাকেনা । অনেকে হয়তোবা দেশের বিখ্যাত স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টর্মাটিন, সুন্দরবন, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি ঘুরেছেন। কিন্তু ঘোরা হয়নি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লিলাভূমি ও হযরত শাহাজালালের (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর স্থান সিলেট। আর সিলেটের পার্শ্ববর্তী জেলা মৌলভীবাজারের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হলো শ্রীমঙ্গল। এখানে আপনি যে দিকে-ই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন চায়ের বাগান। যা দেখতে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ। অনেকে হয়তবা ভাবছেন কিভাবে শ্রীমঙ্গলে যাবেন? তাদেরই ভাবাকে বাস্তবে রুপ দিতে সামান্য চেষ্টা করছি কিছু তথ্য দিয়ে।

শ্রীমঙ্গল চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত- এ কথা প্রায় সবাই জানেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান আছে মৌলভীবাজার জেলায়। আর এ জেলার বেশিরভাগ চা-বাগানই শ্রীমঙ্গলে। সাধারণত মে মাস থেকে চাপাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে বাগানও থাকে সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল। তাই পাহাড়-টিলার বাঁকে বাঁকে চা-শ্রমিকদের কর্মত দেখতে যাওয়ার এখনই মোক্ষম সময়।

‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দেখে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ভ্রমণ শুরু করতে পারেন। বাগানে চাপাতা তুলছে এক তরুণী শ্রমিক। এই আদলে তৈরি সাদা ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথেই দৃষ্টি কেড়ে নেবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহায়তায়। ‘চা-কন্যা’র সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সাতগাঁও চা-বাগান। সেটিও দেখে নিতে পারেন।

‘চা-কন্যা’ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের দূরত্ব বেশি নয়। ছোট্ট শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছ সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে ফিনলের চা-বাগান।tee2

চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা-বাগান, এ ছাড়া আছে বিটিআরআইর নিজস্ব বাগান। ভানুগাছ সড়কের টি-রিসোর্ট
ফেলে সামনে দুটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলেই জেরিন টি-এস্টেট।

লাউয়াছড়ার আগে হাতের ডানে জঙ্গলঘেরা পথটি চলে গেছে নূরজাহান টি-এস্টেটের দিকে। এ পথে দেখা মিলবে আরো বেশ কিছু বাগান।

শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। পথের মধ্যেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। কমলগঞ্জ থেকে আরো পাঁচ কিলোমিটার গেলে পাহাড়ঘেরা চা-বাগানের মধ্যে বিশাল মাধবপুর লেক।

তবে চা-বাগান দেখতে দেখতেও মাধবপুর যাওয়া যায়। এর জন্য ধরতে হবে নূরজাহান টি-এস্টেটের পথ। বাহন হিসেবে অবশ্যই জিপ নিতে হবে।

মাধবপুর লেক থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক থেকে হাতের ডানের রাস্তা চলে গেছে ধলাই সীমান্তের দিকে। এ পথে সীমান্ত পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শুধুই চা-বাগান। সীমান্তে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ফাঁড়ি। এর পাশেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ।

এখান থেকেও চা-বাগান দেখতে দেখতে ভিন্নপথে ফিরতে পারেন। ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে সামান্য এগিয়ে হাতের বামে বেশ পুরনো চা-বাগানের বাংলোর পাশ ঘেঁষা রাস্তা ধরে চললে, চা-বাগানের বাঁকে বাঁকে ফেরা যাবে শ্রীমঙ্গল শহরে।

ভ্রমণশেষে পান করতে পারেন নীলকণ্ঠ কেবিনের সাতরঙা চা। শহরের বিজিবি সদর দপ্তরের পাশেই নীলকণ্ঠের একটি শাখা আছে।

teeপ্রয়োজনীয় তথ্য : যে কোনো চা-বাগানে প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। বাগানগুলোয় ভ্রমণের জন্য জিপ গাড়ি প্রয়োজন পড়বে। শ্রীমঙ্গল শহরেই ভাড়ায় জিপ পাওয়া যায়। এসব গাড়ির চালকদের বাগানগুলোও চেনাজানা।

চা-বাগানে সারাদিন ভ্রমণে জন্য একটি জিপ ভাড়া করতে খরচ হবে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস।

ভাড়া ৫১৫ টাকা থেকে ৭৬৫ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল সোয়া ৮টায় ছাড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় ছাড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস।

যেখানে থাকবেন: শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট। অন্যান্য থাকার জায়গার মধ্যে আছে। রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট, টি টাউন রেস্ট হাউস, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি।

সাকি/

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ