করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কে কোন পর্যায়ে

অর্থসূচক ডেস্ক

0
146

মহামারি করোনা ভাইরাস তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এ অবস্থায় কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের সর্বশেষ ২০ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে নভেল করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা বা ভ্যাকসিন বানাতে ১৭৩টি উদ্যোগ চলছে।


এক প্রতিবেদনে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ১৪০টি ভ্যাকসিনের এখনো মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হয়নি। একে বলা হয় ‘প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’। বিজ্ঞানীরা এখনো এসব টিকা নিয়ে গবেষণা করছেন, পশু বা প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই করছেন।
এ ছাড়া ১৯টি টিকার কার্যক্রম প্রথম পর্যায়ে রয়েছে, অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল টেস্টিং বা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে মানুষের ছোট একটি গ্রুপের ওপর টিকাটি প্রয়োগ করে দেখা হয় যে এটি নিরাপদ কি না। সেইসঙ্গে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় কতটা প্রভাব ফেলে, তাও যাচাই করা হয়।
১১টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন রয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। এ পর্যায়ে এসব টিকা কতটা নিরাপদ, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এ পর্যায়ে কয়েকশ মানুষের ওপর টিকার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এর নিরাপত্তা ও সঠিক মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া বিশ্বে এখন তিনটি ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে কয়েক হাজার মানুষের ওপর টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয় যে সেটি কতটা নিরাপদ, কতটা কার্যকর এবং ভ্যাকসিনটি প্রয়োগে বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয় কি না। এখানে সফলতা পেলেই সাধারণত ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে করতে হয়।

এদিকে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলছেন, মানবদেহে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার জন্য আরও পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। বলা হচ্ছে, এই ভ্যাকসিনটি নতুন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে কার্যকর করে তুলতে সহায়তা করে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২০ জুলাই) অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অগ্রিম ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বলা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭৭ জন মানুষের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে ভ্যাকসিনটি মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি নতুন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে উপযুক্ত করে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তৈরি করে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি ও শ্বেত রক্তকণিকা, যা নতুন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে সম্পূর্ণ ফল পেতে এবং মানবদেহে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

অর্থসূচক/কেএসআর