৩০ মাসের আগে খেলাপি হবে না সিএমএসএমই ঋণ

0
147

কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ শ্রেণীকরণ ও ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখায় শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্তানুযায়ী, এই খাতে বিতরণকৃত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ৩০ মাস অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত মন্দ মানের খেলাপি বিবেচনা করা যাবে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে সিএমএসএমই খাতের যে কোনো ঋণ ৬ মাস থেকে ১৮ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড মানে শ্রেণিকৃত হবে। অন্য সব খাতের মতো সিএমএসএমই ঋণও এতদিন তিন থেকে ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নিম্নমান বিবেচিত হত। আর এখন থেকে সিএমএসএমই খাতের যে কোনো ঋণ ১৮ থেকে ৩০ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা সন্দেহজনক বা ডাউটফুল হিসেবে বিবেচিত হবে। এতদিন অন্য সব খাতের মতো এই খাতের ঋণও ৯ থেকে ১২ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণিকৃত করা হত।

এছাড়া এখন থেকে সিএমএসএমই খাতের ঋণ ৩০ মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে খেলাপি বিবেচিত হবে। এতদিন অন্যান্য খাতের মতো সিএমএসএমই ঋণও ১২ মাসের বেশি অনাদায়ী থাকলে তা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হত।
ব্যাংক কোম্পানি আইনে নিয়মিত ঋণের বাইরে ঋণ শ্রেণিকরণের (খেলাপি ঋণ) তিনটি পর্যায় রয়েছে। এসব শ্রেণীমান বিবেচনায় প্রতিটি ব্যাংকের মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয়। নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি রেখে কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারে না। ব্যাংকগুলোকে সিএমইসএমই খাতে ঋণ দিতে আগ্রহী করতে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সার্কুলারের মাধ্যমে ঋণ খেলাপি হওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতের নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণেও বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বেশ কিছুদিন ধরেই সিএমএসএমই খাতের নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে দশমিক ২৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্য সব খাতের নিয়মিত ঋণের বিপরীতে যেখানে রাখতে হয় ১ শতাংশ। এখন থেকে সিএমএসএমই খাতের সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হবে। আগে অন্য সব খাতের মতো এক্ষেত্রে ২০ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হত।

এখন থেকে সিএমএসএমই খাতের সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হবে ২০ শতাংশ। এতদিন যেখানে ৫০ শতাংশ রাখতে হত। তবে মন্দ মানে শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে বর্তমানের মতোই শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে বলে সার্কুলারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/জেডএ/এএইচআর