পুলিশি পাহারায়ও পণ্য পরিবহনে ভরসা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

পুলিশি পাহারায়ও পণ্য পরিবহনে ভরসা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা

ছবি: ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

পুলিশি পাহারাও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সন্ত্রাসীদের নাশকতা ঠেকাতে পারছে না। প্রায় প্রতিদিনই এ মহাসড়রকে পুলিশি পাহারাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পণ্যবাহী যানে আক্রমণ হচ্ছে।গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।এ কারণে পুলিশি পাহারায়ও মহাসড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহনে মালিকরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।সাধারণভাবে প্রতি রাতে এ মহাসড়ক দিয়ে পুলিশি পাহারায় ৩০০ ট্রাক/কাভার্ডভ্যান চলাচল করলেও সহিংসতায় তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পোশাক ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম জানান,পুলিশি পাহারার পরও যদি পণ্যবাহী যানে হামলা হয় তাহলে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। এতে পণ্য পাঠানো আরও কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।এভাবে চলতে থাকলে অধিকাংশ মালিক পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহন করবে না বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন,কিভাবে পণ্য পরিবহন করবে এটা একজন মালিকের নিজস্ব ব্যাপার। তবে কয়েকগুণ পরিবহন খরচবেশি দিয়ে পুলিশি পাহারায় পণ্য পাঠানো ক্ষেত্রে এমন সহিংসতা হলে ব্যবসা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ হাতেম জানান,পুলিশি পাহারায় পণ্যবাহী পরিবহনে আগুন দিয়ে পোশাক পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।এতে পণ্য পরিবহন করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বলতে আর কিছু থাকছে না।

কারখানা থেকে হাইওয়ে পর্যন্ত পণ্য আনার ক্ষেত্রে আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে অর্থসূচককে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএর সমন্বয় সেলের সিনিয়র অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব আব্দুল আজিজ চৌধুরী জানান,পুলিশি পাহারায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন কমে গেছে।এখন প্রতিরাতে ১৫০ ট্রাক/কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে বলে জানান তিনি।তবে বুধবারের ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে পুলিশি পাহারা আরও জোরদার হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামানের কাছে নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য,ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পুলিশের পাহারায় থাকা অন্তত সাতটি পণ্যবাহী গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।মঙ্গলবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম থেকে পোশাক কারখানার কাঁচামালসহ নিয়ে ঢাকায় আসার পথে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।এর আগেও কয়েকবার পণ্যবাহী গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য মতে, চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১২ দিনে ২৪টি কারখানায় ভাংচুর-নৈরাজ্যে ১৯ লাখ ২১ হাজার ২১৯ মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।তবে অন্য সব কারখানার ক্ষতি আরও বেশি বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ