ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবারকে উল্টো সোয়া লাখ টাকা জরিমানা

প্রতিনিধি

0
172

ধর্ষণের শিকার হয়ে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় সালিশ করে তার পরিবারকেই এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর জরিমানার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সোমবার (২০ জুলাই) ওই কিশোরীর পরিবারের গরু, ছাগল, ভ্যান ও বাইসাইকেলসহ বেশ কিছু জিনিস ছিনিয়ে যায় সালিশকারিরা। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে।

১৬ জুলাই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীটিকে ধর্ষণের অভিযোগে মহম্মদপুর থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। মামলায় মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামকে (১৯) আসামি করা হয়েছে। মামলার পর কলেজছাত্র শাহাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে চাঁদা দাবিসহ সমস্ত ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সিদ্দিকি লিটন। এ অভিযোগে সোমবার ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মহম্মদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজছাত্র শাহাবুলের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন হওয়ায় তার পরিবার বুঝতে পারে সে গর্ভবতী। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত ৮ জুলাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা সিদ্দিকি লিটনের কাছে যান ওই কিশোরীর চাচা। এর দুদিন পর ১০ জুলাই মোস্তফা সিদ্দিকি লিটনের নেতৃত্বে এ ঘটনায় এক সালিশ হয়। সালিশে নহাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ওবায়দুর, ক্যাপ্টেন, আক্কাস, মিজান, হামিদুলসহ এলাকার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সালিশে বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তা ১০ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ছয় মাসের জন্য ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, সালিসে দাবি করা কথিত জরিমানার টাকা তারা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাড়িতে চড়াও হন নেতারা। গতকাল সকালে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে যায় নহাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন। তারা বাড়ি থেকে একটি গরু, চারটি ছাগল, একটি সাইকেল, ভ্যান, শ্যালো মেশিনসহ বেশ কিছু জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ছিনিয়ে নেওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন, ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা সিদ্দিকি, ওবায়দুর রহমানসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অবশ্য নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সিদ্দিকি ও তার সহযোগী ওবায়দুর রহমান। মোস্তফা সিদ্দিকি গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের কোনো সালিসে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আর চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না। আমি উল্টো তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

অর্থসূচক/কেএসআর