‘গাঙকুমারী’র খোঁজে তুহিন

0
138

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে নয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ‘গাঙকুমারী’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা ও পরিচালনায় করছেন ফজলুল কবীর তুহিন। চলচ্চিত্রের সব পাত্রপাত্রি পেলেও ‘গাঙকুমারী’র চরিত্রে কোন শিল্পীকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ছাবির গল্প তৈরি করেছি। এখন চিত্রনাট্যের কাজ চলছে। আগামী অক্টোবরে আমরা শুটিং করার চিন্তা করছি। ঈদের আগেই আমরা ছবির টিম নিয়ে লোকেশন দেখতে যাব। তবে ছবির মূল চরিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার জন্য আমরা ‘গাঙকুমারী’কে খুঁজে পাচ্ছি না। বিষয়টি নিয়ে আমাদের চলচ্চিত্রের ‘গাঙকুমারী’ পেইজে বিজ্ঞপ্ত দিয়েছি। আগহীরা আমাদের পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন।

দেশের ভাটি অঞ্চলের ১৮-১৯ বছরের এক জেলে কন্যা ‘গাঙকুমারী’। ভাটি অঞ্চলের নদী, পানি, গাছ, পাখি ও আকাশের সঙ্গে প্রকৃতির অংশ হিসেবেই বিরাজ করে, গাঢ় শ্যামল রঙের এই মেয়েটি। বর্ষার নতুন জলের গন্ধ তার নদীর মতো গভীর কালো চোখকে মাতাল করে। জমাট বাঁধা মেঘের মতো কালোচুলের ঢল, বাংলার পোড়ামাটির টেপা পুতুলের মতো তার সুঠাম দেহের পিঠ ছাপিয়ে গেছে। নদীর বুকে নৌকা বেয়ে এবং বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরে গাঙকুমারীর দিন কাটে। সারল্য ও বলিষ্ঠতার সুস্পষ্ট ছাপ তার আচরণ ও দেহভঙ্গিমায়, যা সে চেষ্টাহীনভাবেই প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে পাওয়া পেশাগত জীবনের কারণে, নারী হিসেবে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের কোনো দ্বিধা, ভয় বা আড়ষ্টতা ভর করেনি তার মনে। মানুষ হিসেবে আত্মরক্ষায় সার্বক্ষণিক যে সংগ্রাম চলে সামাজের প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে, তা গাঙকুমারী চরিত্রে সৌন্দর্য রূপে প্রতীয়মান হয়ে পৌঁছে গেছে পৃথিবীর সব প্রান্তিক মানুষের অনির্দেশ্য কোনো জীবন সংগ্রামে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সহজশক্তি গাঙকুমারী চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য এবং এই কারণেই আবহমান বাংলার নারীর আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিনিধিত্বও করে সে। শাপলা ফোটা নদীর বুকে বেড়ে ওঠা, অত্যন্ত স্বল্পভাষী এই মেয়েটির জীবন নানা বাঁকে বিচিত্র ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে বয়ে চলে এবং এর ভেতর দিয়ে উঠে আসে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির জলছবি।

এমন চরিত্রের জন্য অভিনয় গুণ সম্পন্ন শিল্পী প্রয়োজন। আগ্রহীরা ‘গাঙকুমারী’ পেইজের ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। ছবিটি প্রযোজনা ও পরিচালনায় করছেন ফজলুল কবীর তুহিন।

অর্থসূচক/এএইচআর