যদি কিছু হয়ে থাকে সবাই মিলে বসে সমাধান করি: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
132

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আশি-নব্বই দশকের নন্দিত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এক সময় ঢাকাই সিনেমায় তিনি বাদশা ছিলেন। এখনো সব কালের সেরা ছবি হয়ে আছে তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’। সময়ের সাথে সাথে তিনি নিজেকে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির পথেই নিয়ে এসেছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে বেশিরভাগ ছবিই ব্লকবাস্টার হিট ছিলো। দীর্ঘ দিন ধরে চলচ্চিত্রের বেহাল দশা। তার মধ্যেই এ অঙ্গনের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে ব্যস্ত। গত ১৫ জুলাই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন। এর প্রতিবাদে এফডিসিতে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী ও তারকারা। রোববার এফডিসির জহির রায়হান মিলনায়তনের প্রদর্শন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

দেশের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন তার বক্তব্যের শুরুতে বর্তমান শিল্পী সমিতির করোনাকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমি যেমন শিল্পী, তেমনি একজন প্রযোজক, তেমনিভাবে একজন পরিচালকও। চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুনভাবে বলার কিছুই নাই। মানুষ কাজ করতে পারছে না, উপার্জন করতে পারছে না। সেই জায়গা যদি এমন দলাদলি হয় তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। বরং আমাদের প্রত্যকের চেষ্টা করা উচিত যেভাবেই হোক চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ভাঙন রোধ করতে হবে। আমি একটা জিনিস মনে করি চলচ্চিত্র যতদিন বেঁচে থাকবে আমি মরে গেলেও বেঁচে থাকবো। আর চলচ্চিত্র যদি না থাকে কেউ আমাকে স্মরণ করবে না।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি নিজেও চলচ্চিত্রের শিল্পী সমিতির সেক্রেটারি ছিলাম। সত্যি কথা বলতে বর্তমানে যে কমিটি আছে আমি প্রশংসা না করে পারছি না। ২৬ শে মার্চের পরে এই প্রথম আমাকে বাইরে আনতে পেরেছে শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দ। আমি একটা দিনও বের হইনি। আমি আল্লাহর কাছে একটা কথাই বলেছি যে যাই হোক না কেন আমি যেন একটা মিটমাট করে দিতে পারি। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই এখানে আসা। পরিচালক-প্রযোজকদের উদ্দেশে আমি বলবো আপনারা চলচ্চিত্রের অংশ যেমন আমরা চলচ্চিত্রের অংশ কেউ কাউকে বাদ দিয়ে চলচ্চিত্র এগুতে পারবে না। করোনার মধ্যে আমরা দেখেছি শিল্পী সমিতি তাদের যে কাজ করেছে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা কী দিচ্ছে না দিচ্ছে তা জানিয়েছে। এভাবে কোনো নেতৃবৃন্দকে দেখি নাই শিল্পীদের পাশে থাকতে। আমি নিজেও দায়িত্ব পালন করার সময় পারি নাই। এখন করোনার যে দুর্যোগ চলছে ঠিক এই সময়ে অনেক প্রযোজক আছেন যারা খুব খারাপ অবস্থায় আছেন। আমি আশা করবো প্রযোজকরা নেতারা সমস্যায় থাকা প্রযোজকদের পাশে দাঁড়াবেন। যে সকল পরিচালক আছেন সমস্যার মধ্যে সেখানে পরিচালক সমিতির নেতারা তাদের পাশে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি একটা কথাই বলার জন্য এসেছি আসুন ভুলভ্রান্তি মানুষের হয়। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ পাবেন না যে ভুল করে না। মানুষ জন্মগতভাবেই ভুল করে। ভুল হতেই পারে কিন্তু এটাকে প্রজ্বলিত করার চেষ্টা করবেন না। যদি কিছু হয়ে থাকে সবাই মিলে বসে সমাধান করি। সিনিয়ররা মিলে সব কিছু ঠিক করে দেই। এই করোনায় আমরা কে কখন চলে যাবো আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এই পরিস্থিতিতে আমরা বিরোধ তৈরি না করি। আমাদের মৃত্যুর পরে কেউ যেন গালি না দেয় এই লোকটা ওই কাজটা করে গেছে। এই উপলব্ধি যেন সবার হয়। আমি আশা করবো খুব অল্প সময়ের মধ্যে বসেই এই সমস্যার সমাধান করবো। এ সময় শিল্পীদের সহযোগিতায় ১ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

উল্লেখ্য, সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের। ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ববিতা। এরই মধ্যে অভিনয় জীবনের চার দশক পার করেছেন এই গুণী অভিনেতা।

অর্থসূচক/এএইচআর