লিবিয়া ইস্যুতে মিশর-তুরস্ক সংঘাতের আশঙ্কা

0
369
লিবিয়ার হাফতারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী

লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের অনুমতি পেয়েছে মিশর সরকার। দেশটির সংসদ গতকাল (২০ জুলাই) দেশের বাইরে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আস-সিসি প্রয়োজনে লিবিয়ায় সেনা পাঠাতে পারবেন।

লিবিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী

সিসি তুরস্ক সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবেশি লিবিয়ায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর এই অনুমোদন দেয় দেশটির সংসদ। এক বিবৃতিতে মিশর বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় একটি ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্ট’ গঠন করতে পারবে কায়রো।

পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশি লিবিয়ার প্রতি লক্ষ্য রেখে এই ফ্রন্ট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে মিশরের সংসদ। এদিকে লিবিয়া ইস্যুতে তুরস্ক ও মিশর পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। মিশরের সংসদের এই অনুমোদনের ফলে লিবিয়ার মাটিতে এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে গেল। এদিকে লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের প্রধান স্টিফেন উইলিয়ামস সেদেশে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১১ সালে গাদ্দাফির পতনের সহিংসতা আর বিভক্তিতে জর্জরিত হয়ে আছে উত্তর আফ্রিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ লিবিয়া। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে দুটি সরকার। এর মধ্যে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পরিচালিত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে জাতিসংঘ ও তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ। আর দেশটির বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেন খলিফা হাফতার।

সম্প্রতি তুরস্ক জিএনএ সরকারের সমর্থনে লিবিয়ায় সেনা পাঠালে চাপের মুখে পড়ে বিদ্রোহীরা। বেশ কিছু শহর পুনরায় দখলে সক্ষম হয় জিএনএ সরকার। এ কারণে চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী সরকার মিশরকে লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহবান জানায়।

অর্থসূচক/এএইচআর