করোনা মোকাবেলায় পশ্চিমবঙ্গে অদ্ভুত লকডাউন

0
124

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। দিল্লী, মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে।

বড় বিপর্যয় এড়াতে তাই ফের লকডাউনে ফিরছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে এই লকডাউন স্বাভাবিকভাবে পরিচিত লকডাউন থেকে কিছুটা আলাদা। মমতা সরকার ঘোষিত লকডাউন টানা চলবে না।চলবে সপ্তাহে দু’দিন করে। আর কোন কোন বার লকডাউন থাকবে তা প্রতি সপ্তাহে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে।

খবর আনন্দবাজারের

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার লকডাউনের নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে, চলতি সপ্তাহে লকডাউন থাকবে বৃহস্পতি ও শনিবার। আগামী সপ্তাহে বুধবার লকডাউন হবে। ওই সপ্তাহের দ্বিতীয় লকডাউনের দিনটি আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে। স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে বলা হয়েছে এখন থেকে শনি ও রোববার ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখতে। অর্থাৎ সপ্তাহ পাঁচ দিন কাজ চলবে।ওই দিনগুলিতে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্রাহক পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কগুলিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, রাজ্যে কিছু গোষ্ঠী সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতেই সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত। সাপ্তাহিক দু এই লকডাউনে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারী দফতর (প্রয়োজনীয় এবং জরুরি পরিষেবাগুলি ছাড়া) এবং বাজার বন্ধ থাকবে। সমস্ত পরিবহণ পরিষেবাও বন্ধ থাকবে। এই দু’টি সাপ্তাহিক লকডাউনের দিনে রাজ্যে কোনো ‘অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ’ অনুমতি দেওয়া হবে না।

সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ লকডাউনের পাশাপাশি, ব্রড-বেস কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে ধারাবাহিক লকডাউন চলবে। আলাপন আজ জানিয়েছেন, রাজ্যের কোভিড-১৯ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে যথেষ্ট সংখ্যক বেড রয়েছে। কোভিড হাসপাতালের সংখ্যাও বেড়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব, পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৮৭ শতাংশই উপসর্গহীন। উপসর্গহীন আক্রান্তদের হোম আইসোলেশন এবং সেফ হোমে রাখা যাবে।