শতভাগ ব্যবহার হয় না চামড়ায় বরাদ্দ ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
276

করোনার প্রভাব শুরুর আগে থেকেই চামড়া রপ্তানিতে চলছে ভারাডুবি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরেও খাতটির রপ্তানি আয় ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ কোটি ডলারের কম। এবারের ঈদেও চামড়া রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারপরেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। যদিও খাতটিতে বরাদ্দের শতভাগ ঋণ বিতরণ হয়না কোনোবারই।

আজ ১৯ জুলাই ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানীর পশুর হাটসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত¡ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যাপন ও অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। তিনি বলেন, কোভিড মহামারীর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ২.২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে আমাদের দেশে স্থানীয় বাজারে চাহিদা, বৈশ্বিক রপ্তানি এবং প্রবাসী আয় কমে গেলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্বে বিতরণকৃত ঋণের সিংহভাগই অনাদায়ী থাকার পরেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো। এ বছর সোনালী ব্যাংক ১০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ১৮০ থেকে ২০০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১৮৫ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ১৫৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদায়ি অর্থবছরে দেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ কোটি ডলারের কম। গত অর্থবছরের চেয়ে ২১.৭৯ শতাংশ বা ২২ কোটি ডলার কম। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ৪৭ কোটি ৮৭ কোটি ডলার আয় হয়েছে চামড়ার জুতা রপ্তানি করে। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছে ২২ কোটি ডলার। আর চামড়া রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।

প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ব্যাংকগুলোর বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত অর্থায়ন জটিলতায় সেই পুরো অর্থের ব্যবহার হয় না। চামড়া খাতে ঋণ পাওয়ার যে শর্ত সেটা ব্যবসায়ীরা পূরণ করতে না পারায় অর্থায়নও ঝুলে যায়। কারণ কোরবানির চামড়া কিনতে আগের বছর প্রাপ্ত ঋণের যে অংশ পরিশোধ করা হবে, সেই পরিমাণ অর্থই পরবর্তী বছর ঋণ হিসেবে নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া এ খাতের পুরো সাপ্লাই চেইনের কাছে অর্থ পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ার কারণেও বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত থাকছে। সম্প্রতি চামড়াশিল্পে ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত এক সভায় বলা হয়েছে, গত বছর চামড়া কিনতে ব্যাংকগুলোর বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ৪৫ শতাংশ কোরবানির ঈদের আগে তুলতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ, কোরবানির আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৫ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাত্র ২ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে চামড়ার ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। এ সুবিধা পেতে হলে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ব্যাংকগুলো নিজেরাই এ ঋণ পুনঃতফশিল করতে পারবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ঋণগ্রহীতাদের আওতার বাইরে কোনো কারণে ঋণ শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে তা পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়া যাবে। কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ ৮ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে। এছাড়া কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট গ্রহণের শর্ত শিথিল করা যাবে।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস