বাংলাদেশে করোনার ৮টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
154

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ৫৯০ বার জিন পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। এছাড়া বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সে ৮টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পেয়েছে বিসিএসআইআর।


আজ রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ১৭১টি কেসের সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। ভাইরাসটি প্রোটিন লেভেলে ২৭৩ বার মিউটেশন করেছে এবং ৩৮টি স্পাইক পরিবর্তন করেছে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠনাটি ২২২টি জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রধান কারণ ডি৬১৪জি করোনা ভাইরাস বলেও শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভাইরাসটি মানুষের শরীরের উপকারি ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সেলিম খান জানান, এ পর্যন্ত তারা ১৭৩টি নমুনার সিকোয়েন্সিং করেছেন। এতে দেখা গেছে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরা ভাইরাসটির জিনেমিক লেভেলে ৫৯০ ও প্রোটিন লেভেল ২৭৩ বার মিউটেশন হয়েছে। ৮টি ইউনিক মিউটেশন পাওয়া গেছে যা বিশ্বের কোন দেশের ডাটার সঙ্গে মিল নেই। এটি এখন গবেষণার মূল বিষয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা ৬৭ হাজার ৫২৪ এর বেশি করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স ডাটা বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (গ্যাসএইড)-তে প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১৭৩টি করোনা ভাইরাসের জীবন রহস্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। এগুলো থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসটি ইতালির ভাইরাসটির সঙ্গে বেশি নিবিড়।

বিসিএসআইআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের যে গবেষণা হচ্ছে তাতে বাংলাদেশকে বিবেচনায় রাখা হবে, তা এখন নিশ্চিত হয়েছে। বৃটেন ও আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, তারা যে পরিমাণ সিকোয়িন্সিং ডাটা চেয়েছে তা দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন বলা যায় করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আসলে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ভ্যাকসিন আমরা পাব।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বলা যায়, বিসিএসআইআর যেসব ডাটা পেয়েছে তাতে ইতালির করোনার সঙ্গে মিল আছে। তবে ইউনিক যে কয়টি সিকোয়েন্স মিলেছে তার আরো নমুনায় পাওয়া যায় কিনা তা দেখতে হবে। বিস্তর গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে সংক্রমণের ধরনের বিষয়ে। সেজন্য আরো সময়ের প্রয়োজন।

অর্থসূচক/কেএসআর