১০ দিনের রিমান্ডে সাহেদ-মাসুদ 

0
109

বহুল আলোচিত করোনার টেস্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভজকে ১০ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ (১৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিমের আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক গাফফারুল আলম তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে চাইলে শুনানি শেষে আদালত সাহেদ ও মাসুদের ১০ দিনই এবং তরিকুলের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জু করেন। উনি উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাহেদকে কঠোর নিরাপত্তা মধ্য দিয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়।

গতকাল (১৫ জুলাই) সকালে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় দেবহাটার কোমরপুরে র‌্যাবের হাতে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যগাজিনসহ সাহেদ র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যান র‍্যাব সদস্যরা। বিকেলে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সাহেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষা শেষে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পরে রাতে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাজতখানায় রাখা হয়।

তার আগে র‍্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থাটির মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাহেদের নামে প্রায় ৫৯টি মামলা রয়েছে। এ থেকেই তিনি কতটা প্রতারক সেটি বুঝতে পারছেন। একপর্যায়ে তাকে ধরতে সক্ষম হই। গত ৬ জুলাইয়ের পর থেকে সাহেদ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে চলাফেরা করতেন। কখনো গণপরিবহনে, কখনো ব্যক্তিগত গাড়িতে, কখনো ট্রাকে চড়ে আবার কখনো হেঁটে চলাফেরা করেছেন।

গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

অর্থসূচক/এএইচআর