বছর শেষ হলেও বরাদ্দের টাকা ব্যয় করতে পারেনি স্বাস্থ্যখাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
65

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা বেহাল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর তা ফুটে উঠেছে সবার সামনে। স্বাস্থ্য খাতের অদক্ষতার বিষয়টিও উঠে এসেছে ভুক্তভোগীদের মুখ থেকে। বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম এবং যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া সেটিও খরচ করতে পারে না স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। তারই প্রমাণ মিলল সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আর্থিক খরচ বিশ্লেষণে।

করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর টানা দুই মাসের বেশি সময় সাধারণ ছুটি থাকলেও স্বাস্থ্য খাত ছিল সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টাকা থাকলেও খরচ করতে পারেনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বছর শেষে দেখা গেল, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বিদায়ী অর্থবছরে যা টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটিও খরচ করতে পারেনি। তা ছাড়া সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৮০.১৮ শতাংশ, যা গত ২৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। অথচ তারা খরচ করতে সক্ষম হয়েছে পাঁচ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭৭ শতাংশ টাকা খরচ করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি টাকা খরচ করতে না পারায় ফেরত গেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটিতে সব কিছুই ছিল বন্ধ। সাধারণ ছুটির সময় সরকারি অফিস-আদালত, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও বন্ধ ছিল। সাধারণ ছুটি বাতিল করে ১ জুন থেকে সরকারি অফিস আবার চালু হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও ফের ধীরে ধীরে শুরু হয়। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে দেখা গেছে, শুধু জুন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৪৬ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে ২৩ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পুরো অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় একজনের প্রাণহানি ঘটে। ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। মার্চে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে এডিপি মাত্র ৪ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল। মে মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫৭ শতাংশে উন্নীত হয়। আর বছর শেষে এডিপি বাস্তবায়িত হয় ৮০ শতাংশ। সে হিসাবে এক মাসে ২৩ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। টাকার অঙ্কে ৪৬ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত অর্থবছরগুলোয় এডিপি বাস্তবায়ন হতো ৯০ শতাংশের ওপরে। কিন্তু সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৮০.১৮ শতাংশ, যা ২৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এদিকে জাতীয় বাজেটের এডিপির আকার প্রতিবছর বাড়লেও বাস্তবায়নের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে যে বাজেট ঘোষণা করা হয় বাস্তবে তা ব্যয় হচ্ছে না। প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়লেও আগের চেয়ে আনুপাতিক হারে ব্যয় কম হচ্ছে। ফলে বাজেটের প্রাক্কলন এবং প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্য ক্রমশ বাড়ছে। তাই বড় বাজেট ঘোষণা করে সরকার বাহবা পেলেও এর বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নেও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর