এমপি মোজাম্মেলের শেয়ারে বিনিয়োগ তথ্য চেয়েছে দুদক

0
252
Dr. Mozammel, ডাক্তার মোজাম্মেল
সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল
Dr. Mozammel, ডাক্তার মোজাম্মেল
সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল

সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বাগেরহাট ৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং তার ছেলে ডা. মাহমুদ হোসেনের শেয়ার সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে গত ৭ মে দুদকের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং তার ছেলে ডা. মাহমুদ হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং তার ছেলে ডা. মাহমুদ হোসেনের নামে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি শেয়ার থাকলে তার বিও হিসাব, আইডিএ হিসাব, কোম্পানির নাম, শেয়ারের পরিমাণ, শেয়ারের ক্রয়মূল্য, পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট, ট্রানজেকশন স্টেটমেন্টসহ সর্বশেষ হালনাগাল রেকর্ড জানা দরকার। কিন্তু এর আগে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের পরও রেকর্ড সরবরাহ করা হয়নি। এজন্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং তার ছেলে ডা. মাহমুদ হোসেনের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে পত্র পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেছে দুদক।

জানা গেছে, গত ২ ফেব্রয়ারি ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে। এর প্রেক্ষিতে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান অভিযোগটি পরীক্ষার জন্য বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্তে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমএইচ সালাহউদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এমপি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়েছে, মোজাম্মেল হোসেন ২০০৬ সাল থেকে ২০০১১ সাল পর্যন্ত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়ী হিসাব গোপন রেখে ২০১৩ সালে তথ্য বিবরণী পেশ করেন। গত ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় তথ্য বিবরণীতেও অনেক সম্পদ গোপন রেখেছেন তিনি। বর্তমানে তার সম্পদ প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেওয়া তথ্য বিবরণীতে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের হিসাব গোপন করেছেন। ইতোপূর্বের তথ্য বিবরণীতে বাগেরহাটস্থ আমলাপাড়ায় স্ত্রীর নামে একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। গত ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট আমলাপাড়ায় বিশাল অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা (বাড়ি নম্বর ৪২, আমলাপাড়া মেইনরোড, বাগেরহাট)। খুলনায় নিরালায় একটি অত্যাধুনিক মডেলের বাড়ি নির্মাণ করেছেন। যার নির্মাণ মূল্য ১০ কোটি টাকা (বাড়ি নম্বর-৪৭৭, রোড নম্বর-২৪, সঞ্চিতা, নিরালা আ/এ, খুলনা)। একই সময় ঢাকার নিকুঞ্জে বহুতল ভবনের নির্মাণে তিনি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।

জানা যায়, এমপি মোজাম্মেল হোসেন ডাক্তারি পেশায় নিযুক্ত থাকলেও তিনি গত ২০ বছর ওই পেশায় যুক্ত নন। এ পেশার মাধ্যমে তার কোনো আয়ও নেই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত পাঁচ বছর এমপি থাকা অবস্থায় মোরেলগঞ্জ শরণখোলায় সব সরকারি চাকরি প্রদানে প্রভাব বিস্তার করে প্রায় ৫০০ লোকের চাকরি, পুলিশ, শিক্ষক, নার্স, স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগ, সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পিয়ন, সুইপার নিয়োগে জন প্রতি তিন থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ মোরেলগঞ্জস্থ দৈবজ্ঞহাটি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে ১০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন।

নিয়ম অনুসারে, একজন এমপি তিনটির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি থাকতে পারবেন না। তবুও তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে প্রায় ১৫টি স্কুল-কলেজের সভাপতি থেকে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।

এ ছাড়া সরকারের টেস্ট রিলিফ কর্মসূচি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী ৪০ দিনের কর্মসূচির সমস্থ টাকা নামে, বেনামে ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন। ৪০ দিনের ওই কর্মসূচি থেকে অর্ধেক অর্থ মোজাম্মেলকে দিতে পারে এমন প্রজেক্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কারণে মূল পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ শরণখোলার বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের মূল টাকার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ টাকা ঠিকাদারদের কাছ থেকে আগে নেন তিনি।

এ সব অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ মোজাম্মেলের ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেনকে দিয়ে খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকায় বিশাল অট্টালিকা তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। হলফনামায় মোজাম্মেলের গাড়ি না থাকলেও বাস্তবে তার একাধিক গাড়ি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. মোজাম্মেল হোসেন তার নিকটতম নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রহিম খানকে ৪০ হাজার ৪৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ডা. মোজাম্মেল হোসেন (নৌকা) পেয়েছিলেন ৬১ হাজার ৩০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম খান (আনারস) পেয়েছিলেন ২১ হাজার ২৬১ ভোট।

অর্থসূচক/জিইউ