ভৈরবে করোনা ভয়ঙ্কর, নমুনার ৩৮ ভাগই পজেটিভ

কিশোরগঞ্জে আক্রান্ত ৭শ ছাড়িয়েছে

0
221

বাণিজ্যনগরী ভৈরবে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ক্রমেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে। উপজেলাটির জনগোষ্ঠির একটি অংশের দায়িত্বহীনতা করোনার তাণ্ডবকে অনিবার্য করে তুলেছে। ছোট্ট এই জনপদে করোনার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন দেশের অনেক জেলার চেয়েও বেশি।

সর্বশেষ পাওয়া ৫ জুনের রিপোর্ট অনুসারে, এই উপজেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৫ জনে। এখনো ৪, ৬,৭ ও ৮ জুনের রিপোর্ট বাকী। বাকী আছে ৫ জুনের নমুনার একাংশের রিপোর্ট। এই চার দিনের রিপোর্ট আসার পরে শনাক্তকৃত আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জন। এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯০ জন শনাক্ত হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদরে।


প্রিয় পাঠক,করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নির্বাচিত নিউজ ও টিপস এখন থেকে পাওয়া যাবে

ফেসবুক গ্রুপ Corona: News & Tips এ। গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই থাকতে পারেন আপডেট।


সোমবার (৮ জুন)  ভৈরব থেকে পাঠানো ৫ জুনের নমুনার একাংশের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ওই দিন ১১২ টি নমুনা পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে সোমবার ৯০টির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আর তাতে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৪০ জনের শরীরে। এদের মধ্যে ২ জন পুরনো রোগী। নতুন শনাক্ত ৩৮ জন।

নমুনার বিপরীতে ভাইরাস শনাক্তের দিক থেকে ভৈরবের দেশের সবচেয়ে নাজুক এলাকাগুলোর অন্যতম। কারণ সোমবার প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুসারে মোট নমুনার ৩৮ শতাংশের মধ্যে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অথচ সোমবার জাতীয় পর্যায়ে শনাক্তের হার ছিল ২১ শতাংশের মতো।

এর আগে ভৈরবে দু’দিনের পাঠানো নমুনায় সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশে করোনা পাওয়া গিয়েছিল।

ভৈরবের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ একাধিকবার নিজের ভৈরবের পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তাদেরকে ন্যুনতম শারীরিক দূরত্ব ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে ভৈরবের কিছু মানুষ এসব পরামর্শকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বিপর্যয়কে তীব্র করে তুলছেন।

ভৈরব উপজেলায় প্রশাসন এবং স্থানীয় চেম্বারের যৌথ বৈঠকে ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজার ও কৃষিপণ্যের আড়ত ছাড়া বাকী সব দোকানপাট ২ সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে মিষ্টি পট্টি, চক বাজার, দুধ বাজার ও রানী বাজারে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত লংঘন করে দোকানপাট খুলে বসেছেন। এ কারণে ভৈরব সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কয়েকটি কারণে ভৈরবের এমন নাজুক অবস্থা হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের দিক থেকে খুবই সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে ভৈরবের উপর দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসা-যাওয়া করেন। বন্দরনগরী হওয়ায় এমনিতেও এখানে মানুষের আনাগোনা বেশি। অন্যদিকে ঈদ-উল-ফিতরের আগে দেশের বড় বড় মার্কেট বন্ধ রাখা হলেও ভৈরবের সব মার্কেটই ছিল খোলা। তার উপর ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় শহর থেকে ভৈরবে ফিরেছিল। অন্যদিকে গত দুই বুধবারে সাপ্তাহিক হাটে করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে অনেক ব্যবসায়ী কাপড় নিয়ে ভৈরব গিয়েছেন। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণের জন্য একটা উর্বর ক্ষেত্র তৈরি হয় ভৈরবে।

এদিকে ভৈরবের তুলনায় কিশোরগঞ্জের অন্যান্য উপজেলায় কম হারে বাড়লেও জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭শ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে চলতি সপ্তাহেই এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

একনজরে কিশোরগঞ্জে উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যাঃ

 ভৈরব উপজেলা  ৩০৫ জন
জেলা সদর      ৯০ জন 
 তাড়াইল উপজেলা ৫৩ জন   
করিমগঞ্জ উপজেলা    ৪৫জন
বাজিতপুর  উপজেলা ৪৩ জন 
কুলিয়ারচর উপজেলা       ৩৫ জন
পাকুন্দিয়া উপজেলা ৩০ জন
কটিয়াদি উপজেলা  ৩০ জন 
মিঠামইন উপজেলা  ২৫ জন
 ইটনা  উপজেলা         ১৭ জন 
হোসেনপুর উপজেলা ১৪ জন 
নিকলী উপজেলা ১১ জন

অষ্টগ্রাম                                                                                         ৪জন