‘দেশের মানুষের কল্যাণে এসেছি, সেটি অপরাধ হলে ক্ষমা করে দেবেন’

অপপ্রচারে ব্যথিত ডা. ফেরদৌসের প্রতিক্রিয়া

0
328

করোনাভাইরাসের প্রকোপে বাংলাদেশের মানুষকে সেবা দিতে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার। কিন্তু নিজ দেশের মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মিশন তার সুখকর হয়নি। তাকে নিয়ে একটি মহল নানা অপপ্রচারে মত্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে নানা প্রোপাগান্ডা।

এমন ঘটনায় অপ্রস্তুত ডা.ফেরদৌস মানসিকভাবে অনেকটাই পর্যুদস্ত। হতাশ ও ব্যথিত ফেরদৌস তার ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া একাধিক স্ট্যাটাসে এই হতাশা ও বিস্ময় তুলে ধরেছেন। একটি স্ট্যাটাসের শেষাংশে তার করুণ আর্তি ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছেন,’….আমি এমপি বা মিনিস্টার হতে আসিনি, আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমার শিক্ষা এবং মেধা মানুষের কাজে লাগাতে। সেটা যদি অপরাধ হয় আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করবেন না। এটা আমার প্রাপ্য না।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকে ডাঃ ফেরদৌস দেশের মানুষের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন। ফেসবুক লাইভে তিনি করোনা মোকাবেলায় করনীয়, সতর্ক থাকার উপায়সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে আসছেন অত্যন্ত সহজ ভাষায়।

আজ রবিবার বিকালে কাতার এয়ারওয়েজের চার্টার্ড ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। পরে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যায়। তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন করোনাভাইরাসে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। এর মাঝেই দেশে একটি মহল তাকে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের স্বজন বলে দাবি করছে। সোশ্যাল সাইটে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. ফেরদৌস।

উল্লেখ, ডা. ফেরদৌস বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা দিতে আসবেন এমন ঘোষণা দেওয়াপর পর থেকেই একটি মহল ফেসবুকে তৎপর হয়ে উঠেছে। কেউ তাকে খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কেউ-বা আবার বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল রশিদের খালাতো ভাই হিসেবে প্রচার করছে। ফেরদৌস ঢাকায় পৌঁছার পর এই প্রচারণা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যদিও ডা. ফেরদৌস দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন,তার বাড়ি কুমিল্লা হলেও তিনি মোশতাক বা কর্ণেল রশিদের আত্মীয় নন;এমনকি তার কোনো আত্মীয়ও তাদের আত্মীয় নন।

আজ  রোববার (৭ জুন) বিকালে কাতার এয়ারওয়েজের চার্টার্ড ফ্লাইটে ডা.ফেরদৌস ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। পরে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যায়। তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন করোনাভাইরাসে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। এর মাঝেই দেশে একটি মহল তাকে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের স্বজন বলে দাবি করছে। সোশ্যাল সাইটে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. ফেরদৌস।

তিনি লিখেছেন,প্রিয় বাংলাদেশ। দেশে এসেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে। তার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিতেও আমি পিছপা হইনি। যখন ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি দেশে এসেছি, তখন একদল লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, আমি নাকি খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা খুনি কর্ণেল রশিদের খালাতো ভাই।

অথচ পুরো বিষয়টি কাল্পনিক। আমার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। কুমিল্লায় বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বাড়ি। কুমিল্লা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা। কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মোশতাকের ভাতিজা কিংবা কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হয়ে যায় না। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এই দুই খুনির সাথে আমার পারিবারিক কিংবা আদর্শিক কোন সম্পর্ক নেই।

বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমি ,তাদেরকে চরম ঘৃণা করি। ফলে যারা এই খারাপ কথাগুলো ছড়াচ্ছেন, বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার; ভালো কাজে বাধা দেয়া। এটা অন্যায়। আমি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রমাণের জন্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি। যদি মনে করেন আমার সেবা আপনাদের দরকার, তাহলে পাশে থাকুন।

এর কিছু সময় আগে আরেকটি স্ট্যাটাসে ডা. ফেরদৌস লিখেন, জানিনা কেন আমাকে নিয়া এসব অপপ্রচার চলছে। আমি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আত্মীয় না, আমার কোন আত্মীয় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আত্মীয় না। আমি এমপি বা মিনিস্টার হতে আসিনি, আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমার শিক্ষা এবং মেধা মানুষের কাজে লাগাতে। সেটা যদি অপরাধ হয় আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করবেন না। এটা আমার প্রাপ্য না।