আইনজীবীকে হত্যা, রতনের স্বীকারোক্তি

চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে বাড়ির মালিক আসাদুল হক (৬০) নামে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক আইনজীবীকে গলাকেটে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিয়েছে ঘাতক রতন মিয়া। চিনে ফেলায় এবং নাম ধরে ডাক দেওয়ায় আইনজীবী হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় সিনিয়র আইনজীবী আসাদুল হককে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রতন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সয়েবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। তাজহাট থানার ওসি রোকনুজ্জামান একথা জানিয়েছেন।

জবানবন্দিতে রতন জানায়, আইনজীবী আসাদুল হকের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েশক গজ দূরেই তার বাড়ি। আইনজীবীর স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় তিনি একা ছিলেন বাসায়। ওই বাড়িতে ডাকাতি করতেই গত ৫ জুন দুপুরের দিকে রতন তার সহযোগীদের নিয়ে দেয়াল টপকে তারা ভেতরে ঢুকেছিল। এ সময় তিনি জুমার নামাজ পড়ার জন্য ওজু করছিলেন। আসাদুল হক চিনে ফেলায় তার পেটে ছোরা ঢুকিয়ে দেয় রতন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে রতন ও তার সহযোগীরা তাকে জাপটে ধরে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর খুনিরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওবার সময় রতনের হাতে রক্ত মাখা ছোড়া দেখে এলাকাবাসী তাকে আটক করে।

ওসি রোকনুজ্জামান জানান, জবানবন্দিতে রতন তার সহযোগীদের নাম বলেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাবে না।

স্থনীয়রা জানান, নিহত আইনজীবীর দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আশা হক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। করোনার জন্য ছোট মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী সাবেরা হক শেফালী গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন। আর ধর্মদাস বারো আউলিয়ার ওই বাড়িতে আসাদুল হক ছিলেন। আসাদুল হক রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক এপিপি ছিলেন।

অর্থসূচক/এএইচআর