মাস্ক নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
183

করোনা ভাইরাস মহামারি শুরুর পর সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারে গুরুত্ব না দিলেও এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অবস্থান পাল্টে পরামর্শ দিয়েছে পাবলিক প্লেসে মাস্ক ব্যবহারের জন্য। নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরে তা ছড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে মাস্ক।

আজ শনিবার (০৬ জুন) সংস্থাটি আগের অবস্থান পাল্টে জনসম্মুখে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরের চীনের উহান থেকে করোনা ভাইরাসের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে মাস্কের কার্যকারিতার বিষয়টি অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে সবার কাছে।

মাস্ক নিয়ে নতুন নির্দেশনায় ডব্লিউএইচও’র প্রধান তেদ্রোস আধানম গাব্রিয়েসাস বলেন, নতুন প্রমাণের আলোকে যেসব জায়গায় এই ভাইরাস ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে এবং শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি যেখানে মানা কঠিন সেসব স্থানে ডব্লিউএইচও সরকারগুলোকে জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক পরার ব্যাপারে উৎসাহিত করার পরামর্শ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরামর্শ, যেসব জায়গায় শারীরিক দূরত্ব সম্ভব নয়, যেসব মানুষের বয়স ৬০ বা তার বেশি কিংবা যাদের অবস্থা শয্যাশায়ী তাদের মেডিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

জাতিসংঘের আওতাভুক্ত স্বাস্থ্য সংস্থাটি আরও জানায়, কেবল ফেস মাস্ক কোভিড-১৯ থেকে কাউকে রক্ষা করতে পারবে না।
সম্ভব হলে এই রোগে আক্রান্তদের জনসমাগমে না আসার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এমন ব্যক্তিদের যদি বাইরে আসতেই তাহলে অবশ্যই মেডিক্যাল মাস্ক পরার জন্য পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

এর আগে মাস্ক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সুস্থ মানুষের মাস্ক পরার দরকার আছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

তখনকার নির্দেশনা ছিল, একই কক্ষে যারা করোনায় আক্রান্ত রোগীর সেবা যত্নে নিয়োজিত কেবল তাদেরই মেডিক্যাল মাস্ক পরলে চলবে। করোনা সন্দেহ রোগী ও করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা পোশাক পরতে বলা হয়। অহেতুক সবার মাস্ক পরার দরকার নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশ মাস্ক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন পরামর্শ কানে নেয়নি। বরং জনসমাগমে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে দেশগুলোর সরকার।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলিত তথ্য অনুসারে, গত বছরের শেষের দিকে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত প্রায় বিশ্বজুড়ে ৬৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় তিন লাখ ৯৫ হাজার মানুষ।

অর্থসূচক/কেএসআর