রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ

0
67
রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলার
রপ্তানি সমস্যা ও অগ্রগতি নিয়ে নিয়ে বৈঠক করছেন রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলার
রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলার
রপ্তানি সমস্যা ও অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলাররা

দেশের রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলররা। একই সঙ্গে অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, সঠিক তথ্য প্রবাহ বৃদ্ধি, বাজার মূল্যায়ন, বন্দর শক্তিশালীকরণের বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার পরামর্শও দেন তারা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে রপ্তানি উন্নয়ন ও আমদানিকারক দেশগুলোর অবস্থান শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এই কথা বলেন। ডিসিসিআই এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, ইরাকের রাষ্ট্রদূত শাকির কোয়াসিম মাহদি, শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত ডাব্লিউএ সারাত কে এরাগোদা, তুরস্কের বাণিজ্যিক কনস্যুলার টালি ইউয়ানিক, অস্ট্রেলিয়ার ট্রেড কমিশনের বাংলাদেশস্থ ব্যবস্থাপক মিনহাজ চৌধুরী, দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশস্থ ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ও কনস্যুলাররা তাদের দেশের বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তাদের দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন খাতে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে তুরস্কের কনস্যুলার বলেন, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত, পাট ও পাট জাতীয় পণ্য, লেদার ও লেদার জাতীয় পণ্য, সিরামিক শিল্পকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে পণ্যের বহুমুখীকরণ হলো বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাছাড়া উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন সক্ষমতা, কারখানার আধুনিকায়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শ্রম অধিকারও পোশাকখাতের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সিস্টেম, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সম্প্রসারণ ও বন্দর সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ইরাকের রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছর দুই দেশ মানবসম্পদ রপ্তানিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইরাক এখন দেশের অবকাঠামোগত ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সম্প্রসারণে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে ইরাকে বাণিজ্য করতে বাংলাদেশের জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন দেশটির ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন।

শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত বলেন, শ্রীলংকায় ব্যবসার জন্য অনুকুল পরিবেশ ও সহজী কর সিস্টেম ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে তার সুব্যবহার করতে পারেনি। গত বছর পর্যন্ত সময়ে দেশটি মাত্র ১০ শতাংশ পণ্যের জাহাজীকরণ করতে পেরেছে। যার এখনকার অবস্থান ১৬ শতাংশ। তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে বন্দর যোগাযোগ আরও বাড়াতে পরামর্শ দেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি বলেন, অস্ট্রেলিয়াতে ‘অফ সেশন’ অর্থাৎ শীতের মৌসুমে পোশাক রপ্তানি করতে পারলে বাংলাদেশ বড় বাজার ধরতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ট্যারিফ ও নন ট্যারিফ বাধা দূরিকরণে কনস্যুলাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই করতে পারলে পণ্যের বহুমূখী করণও বাণিজ্যক সম্প্রসারণসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।