শিশুর দুঃস্বপ্ন জয়ের অস্ত্র ছবি আঁকা

Dream_pic

Dream_pic৪ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের অর্ধেকেই মাসে কমপক্ষে একবার দুঃস্বপ্ন দেখে। তখন প্রায়ই ভয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তবে এখন বিকল্প পথে দুঃস্বপ্ন থেকে শিশুদের বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন জার্মানির এক থেরাপিস্ট। খবর ডয়েচে ভেলে।

যারা ঘুমান, তারা স্বপ্ন দেখেন, যারা স্বপ্ন দেখেন তারা স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্ন দুটোই দেখতে পারেন! রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন আসা তেমন বিস্ময়কর কোনো বিষয় না। স্কুলে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত শিশুরা সহজে স্বপ্ন ও বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে গেলেও ভয় থেকেই যায়। অন্ধকার চরিত্র, ভয়ংকর দৈত্যরা শিশুদের কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে। ফলে দিনের পর দিন ধরে মনের মধ্যে তাদের প্রভাব থেকে যায়। শিশুদের মনে স্বপ্নের আবেগ বা অনুভূতি বিশেষ ভাবে দাগ কাটে।

গবেষকদের মতে, রাতের দ্বিতীয় ভাগেই দুঃস্বপ্ন বেশি আসে। সারাদিনে মনের মধ্যে যে চাপ তৈরি হয়, যে সব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়, দুঃস্বপ্ন সে সবেরই প্রতিফলন, হয়ে ফিরে আসে শিশুদের মনে। যে কোনো শিশুর বিবর্তনের ক্ষেত্রেই রাতে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভয় দূর না হলে বুঝতে হবে যে মনের মধ্যে কোনো সংঘাত চলছে এবং এ থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য চিকিৎসা দরকার।

জার্মানির কোলোন শহরের কয়েকজন শিশু দুঃস্বপ্নের মোকাবিলা করতে শিখছে। রাবেয়া ম্যুলার-এর তত্ত্বাবধানে শিশুরা তাদের দুঃস্বপ্নের ছবি এঁকে প্রথমে সেই খারাপ অভিজ্ঞতাকে আবার জাগিয়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘‘নয় বছরের একটি মেয়ে তার ছবিতে একটি দুঃস্বপ্ন তুলে ধরেছে। বাসায় আগুন ধরে গেছে। যেমনটা দেখা যাচ্ছে, বিছানা সহ সে বাড়ি থেকে ছিটকে উড়ে যাচ্ছে।

এবার সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শিশুটিকে বোঝানো, যে তাকে এমন বিপদের পরিস্থিতিতে থাকতে হবে না, সে নিজেই তার অবস্থা বদলাতে পারে। আমরা কয়েকটি ছবি প্রস্তুত করেছি। প্রথমে সে তার বিছানাসহ বিপদ থেকে নিজেকে দূরে সরাতে পারছে। অর্থাৎ সে বিছানায় বসে বিভিন্ন জায়গায় উড়ে যাচ্ছে। যেখানে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে, সেখানেই সে নামতে পারে।”

বের হবার এমন সব পথ খুঁজে পেলে দুঃস্বপ্নের ভয়ংকর শক্তি কমে আসে। শিশুরা আর তখন নিজেদের অসহায় বোধ করে না, দুঃস্বপ্নের মধ্যে নিজেরাই পরিস্থিতির রাশ ধরে। এভাবেই রাবেয়া ম্যুলার শিশুদের মন থেকে দুস্বপ্নের ভয় কাটানোর পথ বাতলে দেন।

টিএসই